মিরপুরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জিম্মি কবিরের সিন্ডিকেটের কাছে


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৮, ২০২২, ১১:২১ পূর্বাহ্ন / ১০০১
মিরপুরের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জিম্মি কবিরের সিন্ডিকেটের কাছে

সরকারের প্রচেষ্টা, সিটি কর্পোরেশন মেয়রদের নানা মুখি তৎপরতার পরও দখলমুক্ত হচ্ছে না রাজধানী মিরপুরের ফুটপাত। উল্টো দিনের পর দিন অবৈধ দখলদারদের কব্জায় যাচ্ছে মিপুরের ফুটপাত গুলো। বসানো হচ্ছে বিভিন্ন দোকান পাট। ফুটপাতে দোকান বসানোর নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সিটি কর্পোরেশন অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্য। বিনিময়ে প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক চাঁদা হিসেবে তারা নিচ্ছেন ৫০ থেকে ২৫০ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরপরিমাণ ৩৫০ টাকা।

ফুটপাত দখলকরে দোকান বসানোয় সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার মিরপুরের যাতায়াত কারী পথ চারীরা। মিরপুর ১ নাম্বার পুলিশ বক্স হইতে, মাজার গেট পর্যন্ত। ৫-৬টি লেগুনা ও স্ট্যান্ড থাকায় রাস্তার আয়তনে ছোট হয়ে গেছে অনেকটাই। অথচ এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে অসংখ্য পরিবহন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। যাত্রীদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকা থাকা যাত্রীরা নেমে হেঁটে গন্তব্য স্থলে যাবেন তারও উপায় নেই। রাস্তায় ফুটপাতে দোকানের সারি। হাঁটার বিন্দু মাত্র জায়গা নেই। অবস্থা এমন- জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব এলাকায় আসতে চাননা অনেকে।

মিরপুরে সব চেয়ে জনবহুল এলাকা হকারমুক্ত করতে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পরপরই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। বিশেষ করে মুক্তবাংলা, মুক্তিযুদ্ধা, সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, কো-অপারেটিভ মার্কেট, শাহআলী, মুক্তি প্লাজা, সহ সনি সিনেমা হলের সামনে ফুটপাত ও মূল সড়কের অর্ধেক দখল করে একটির পর একটি দীর্ঘ সারিতে বসানো হয়েছে দোকান। স্বস্তিতে হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে অসংখ্য দোকানপাট।

জানা গেছে, রাজধানীর এসব ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের হলেও বাস্তবে তানিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপির স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রভাব শালীমহল সহ স্থানীয় মাস্তান প্রকৃতির কিছু লোক। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন তারা। শাহআলী মার্কেট এর সামনে দোকান সংখ্যা আনুমানিক ১৫০টা। এই মার্কেট এর প্রতিদিন দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয় ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। এ টাকা উত্তোলন করেন হান্নান বাহিনী (ওরফে ডেকোরেটর হান্নান)। কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্তবাংলা, মুক্তিযুদ্ধা, সিটি কর্পোরেশন মার্কেট সহ আনুমানিক মোট দোকান সংখ্যা ৬৪০টা প্রতিদিন দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয় ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়ন্ত্রণ করেন একক প্রভাব খাটিয়ে কবিরের সংঘবদ্ধচক্র।এই চক্রের মূল হোতা কবির, কবিরের রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। কবির চাঁদাবাজি করে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।গ্রামের বাড়িতে রয়েছে আলিশান বাড়ি।ঢাকা মিরপুরে একাধিক মার্কেটে রয়েছে দোকান।এই চক্র ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করেন সিসি ক্যামেরা দ্বারা।জানা যায়, এই চক্রের প্রধান মূল হোতা কবিরের নামে রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা। এসব ফুটপাত হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার চাঁদা বাজিহচ্ছে। চাঁদার বড় একটি অংশ যায় সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্যের পকেটে।

অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা পরিচয়ে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রীর দোকান থেকে তোলা হচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ চাঁদার অর্থ। এই চাঁদার ভাগ পাচ্ছেন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। একাধিক বার সিটি কর্পোরেশনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পরে আবারও ফুটপাত চলেযাচ্ছে হকারদের দখলে।

তথ্যমতেরাজধানীঢাকার ১৬৮ কিলোমিটারফুটপাতের ১০৮ কিলোমিটারই বেদখলে।

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • ৮:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ