
আলফাডাঙ্গা বিএনপির নতুন কমিটিকে ‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন কমিটি’ আখ্যা দিয়ে দলের নেতাদের তীব্র ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের অনেক নেতা ও কর্মী এই কমিটিকে সরাসরি “আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন কমিটি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের পদধারী, কর্মী বা সমর্থক পরিচিতি আছে— এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
৭১% সদস্য ‘আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট’ বলে অভিযোগ
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোশবুর রহমান, যাকে নতুন কমিটিতে সহসভাপতি পদে রাখা হয়েছে, তিনি এই কমিটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন কমিটি’। ঘোষিত দুটি কমিটিতে অন্তত ৭৫ শতাংশ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের পদধারী, কর্মী বা সমর্থক। যারা হামলা-মামলা, জেল-জুলুম সহ্য করেছে, তাদের কেউ এই কমিটিতে জায়গা পায়নি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কমিটি সম্পূর্ণভাবে ‘ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া’ হয়েছে এবং এটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলা বিএনপির দাবি: কমিটি গণতান্ত্রিক, প্রমাণ মিললে বাদ
যদিও বিতর্কের মুখে ফরিদপুর জেলা বিএনপি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া (স্বপন) এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। একাধিক কর্মী সম্মেলন করে সবার মতামতের ভিত্তিতেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের বর্তমান পদে আছেন, তাহলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হবে।” স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ এবং জেলা নেতৃত্বের অস্বীকারের ফলে আলফাডাঙ্গা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই কমিটি নির্বাচনের আগে তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে।
Reporter Name 









