০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • ১৭১ Time View

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ভবনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স এখনো উদ্ধার করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে যে কোনো সময় এটি উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিমানের ব্ল্যাক বক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কখনো বিমানের দুর্ঘটনা ঘটলে বা বিধ্বস্ত হলে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) এর মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়। সে ক্ষেত্রে উত্তরায় বিধ্বস্ত বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিধ্বস্ত বিমানের যন্ত্রাংশ এবং আলামত সংগ্রহ করছে বিমান বাহিনী। এছাড়াও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার করা আলামত এবং ব্ল্যাক বক্সের তথ্য যাচাই করে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এছাড়া তদন্ত ও অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের জোর তৎপরতার কথা জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনও বলেছেন, ঘটনার কারণ কী, তা ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ করলেই জানা যাবে। এখানে গল্প বানানোর কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবতাই বলবে কী ঘটেছে।

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখনও শনাক্ত না হওয়া ছয়টি লাশ পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত ১১ জন স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করেছে সংস্থাটির ফরেনসিক বিভাগ। সিআইডি বলছে, লাশগুলো যেহেতু শিশুর, তাই শনাক্তের জন্য কেবল বাবা-মার ডিএনএ নমুনাই যথেষ্ট হবে। এর আগে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা সিএমএইচে রাখা অজ্ঞাত ৬ লাশ শনাক্তে সিআইডি নমুনা সংগ্রহ শুরু করবে। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার সম্পা ইয়াসমিন জানান, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় ছয়টি লাশ রাখা হয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। যেগুলোর পরিচয় মেলেনি। ইতোমধ্যে আমরা ওই ছয়টি লাশের ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছি; যা থেকে মিলিয়ে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বুধবার সকাল থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিকাল পর্যন্ত ১১ জন বাবা-মার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-যদি কারও সন্তান বা স্বজন নিখোঁজ থাকেন এবং তাদের নাম এখনও সরকারি তালিকায় না থাকে, তাহলে মালিবাগে সিআইডি অফিসে গিয়ে ডিএনএ নমুনা দেবেন। সেই সঙ্গে শুধুমাত্র বাবা-মার নমুনা দেওয়া অনুরোধ জানান সিআইডি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬৮ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬৫ জন। পরিচয়হীন নিহতদের লাশ রাখা হয়েছে ঢাকা সিএমএইচে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাসির উদ্দীন বলেছেন, সিঙ্গাপুরের একজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি। বৈঠকে রোগীদের অবস্থা পর্যালোচনা করে ৩টি ভাগ করেছি। এখানে ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরিতে ৮ জন রোগী আছে। তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। তাদের অবস্থা ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে। তাদের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে আছে ১৩ জন রোগী। ইন্টারমেডিয়েট ক্যাটাগরিতে আছে ২৩। তাদের দ্রুত ভালোর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মিলে মোট ৪৪ জন রোগী এখানে ভর্তি আছে। গতকাল বুধবার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে সাংবাদিক সম্মেলনে পরিচালক নাসির উদ্দীন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোগীদের এই তিন ক্যাটাগরি আমাদের ডায়নামিক প্রসেস। রোগীদের অবস্থাভেদে এসব ক্যাটাগরি পরিবর্ত হতে পারে। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এ ক্যাটাগরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখানকার প্রত্যেক রোগী নিয়ে আলোচনা করেছি। কারও অপারেশন লাগবে কি না, কার কি পরিমাণ ড্রেসিং লাগবে, ওষুধ পরিবর্তন হবে কি না; সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি কতদিন থাকবে, এটা এখনো ঠিক হয়নি। তারা কতদিন থাকতে চায়। সেটা পরে জানাবো। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় বেশ কিছু জায়গায় তিনি আমাদের সঙ্গে একমত। কিছু বিষয়ে তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকাও আমাদের সহযোগিতা করতে চাচ্ছে। সবার পরামর্শ নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে দগ্ধদের বিদেশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। এখানে যে প্রটোকলে আছে সেটাই ফলো করবো বলে জানান তিনি।

×
10 May 2026 18:17


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে

Update Time : ০৫:০০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ভবনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স এখনো উদ্ধার করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে যে কোনো সময় এটি উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিমানের ব্ল্যাক বক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কখনো বিমানের দুর্ঘটনা ঘটলে বা বিধ্বস্ত হলে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) এর মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হয়। সে ক্ষেত্রে উত্তরায় বিধ্বস্ত বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিধ্বস্ত বিমানের যন্ত্রাংশ এবং আলামত সংগ্রহ করছে বিমান বাহিনী। এছাড়াও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার করা আলামত এবং ব্ল্যাক বক্সের তথ্য যাচাই করে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এছাড়া তদন্ত ও অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের জোর তৎপরতার কথা জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনও বলেছেন, ঘটনার কারণ কী, তা ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ করলেই জানা যাবে। এখানে গল্প বানানোর কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবতাই বলবে কী ঘটেছে।

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখনও শনাক্ত না হওয়া ছয়টি লাশ পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত ১১ জন স্বজনের নমুনা সংগ্রহ করেছে সংস্থাটির ফরেনসিক বিভাগ। সিআইডি বলছে, লাশগুলো যেহেতু শিশুর, তাই শনাক্তের জন্য কেবল বাবা-মার ডিএনএ নমুনাই যথেষ্ট হবে। এর আগে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা সিএমএইচে রাখা অজ্ঞাত ৬ লাশ শনাক্তে সিআইডি নমুনা সংগ্রহ শুরু করবে। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার সম্পা ইয়াসমিন জানান, উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় ছয়টি লাশ রাখা হয়েছে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। যেগুলোর পরিচয় মেলেনি। ইতোমধ্যে আমরা ওই ছয়টি লাশের ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছি; যা থেকে মিলিয়ে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বুধবার সকাল থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিকাল পর্যন্ত ১১ জন বাবা-মার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-যদি কারও সন্তান বা স্বজন নিখোঁজ থাকেন এবং তাদের নাম এখনও সরকারি তালিকায় না থাকে, তাহলে মালিবাগে সিআইডি অফিসে গিয়ে ডিএনএ নমুনা দেবেন। সেই সঙ্গে শুধুমাত্র বাবা-মার নমুনা দেওয়া অনুরোধ জানান সিআইডি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৬৮ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬৫ জন। পরিচয়হীন নিহতদের লাশ রাখা হয়েছে ঢাকা সিএমএইচে। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাসির উদ্দীন বলেছেন, সিঙ্গাপুরের একজন বিশেষজ্ঞ নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি। বৈঠকে রোগীদের অবস্থা পর্যালোচনা করে ৩টি ভাগ করেছি। এখানে ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরিতে ৮ জন রোগী আছে। তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। তাদের অবস্থা ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে। তাদের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে আছে ১৩ জন রোগী। ইন্টারমেডিয়েট ক্যাটাগরিতে আছে ২৩। তাদের দ্রুত ভালোর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সব মিলে মোট ৪৪ জন রোগী এখানে ভর্তি আছে। গতকাল বুধবার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে সাংবাদিক সম্মেলনে পরিচালক নাসির উদ্দীন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোগীদের এই তিন ক্যাটাগরি আমাদের ডায়নামিক প্রসেস। রোগীদের অবস্থাভেদে এসব ক্যাটাগরি পরিবর্ত হতে পারে। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে এ ক্যাটাগরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এখানকার প্রত্যেক রোগী নিয়ে আলোচনা করেছি। কারও অপারেশন লাগবে কি না, কার কি পরিমাণ ড্রেসিং লাগবে, ওষুধ পরিবর্তন হবে কি না; সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি কতদিন থাকবে, এটা এখনো ঠিক হয়নি। তারা কতদিন থাকতে চায়। সেটা পরে জানাবো। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রায় বেশ কিছু জায়গায় তিনি আমাদের সঙ্গে একমত। কিছু বিষয়ে তিনি আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকাও আমাদের সহযোগিতা করতে চাচ্ছে। সবার পরামর্শ নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে দগ্ধদের বিদেশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। এখানে যে প্রটোকলে আছে সেটাই ফলো করবো বলে জানান তিনি।

×
10 May 2026 18:17