০৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার পর স্যুটকেসে কীভাবে লাশ ভরেন, জানালেন রোজিনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৩৪১ Time View

ফরিদপুরের বাসস্ট্যান্ডে স্যুটকেস থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার রোজিনা আক্তার ওরফে কাজল (৩২)। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসিম মাহমুদের আদালতে এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে তিনি ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। এ সময় এ মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাহিন্দ্রাচালক মো. জানু ব্যাপারী (৪৮) ও রিকশাচালক মো. তাবেল ব্যাপারী (২৫)।

এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস বলেন, জবানবন্দি শেষে বিকেল ৫টার দিকে আদালতের নির্দেশে রোজিনাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

‘তুমি রোজিনা? আমরা ফরিদপুরের পুলিশ’

গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ছাই রঙের লাগেজ (স্যুটকেস) তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ স্যুটকেসের তালা ভেঙে মাথা, হাত ও পা গোটানো অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, লাশটি মিলন প্রামাণিকের (৩৯)। তিনি পাবনা সদরের নতুন গোহাইবাড়ি মহল্লার কাশের প্রামাণিকের ছেলে। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস জানান, আদালতে রোজিনা মিলন প্রামাণিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ধার দেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়া, তাঁকে গালাগালি করা—এসব ক্ষোভে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি লাশটি কীভাবে গুম করার চেষ্টা করেন, তার বর্ণনা দেন।
এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ রোজিনাকে আদালতে সোপর্দ করে। রোজিনা জবানবন্দি না দিলে তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছিল পুলিশ।

ফরিদপুরে তালা ভেঙে একটি স্যুটকেস খুলতেই পাওয়া গেল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী স্যুটকেসটি রেখে গিয়েছিলেন।

বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোরে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের দিক থেকে মাহেন্দ্র গাড়িতে করে বোরকা পরিহিত এক নারী ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে ওই বৈদ্যুতিক খুঁটির সামনে আসেন। মাহেন্দ্র থেকে স্যুটকেসটি নামিয়ে তিনি চলে যান। এতে তাঁকে সহযোগিতা করেন একই মাহেন্দ্র গাড়িতে আসা তিন থেকে চার ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ওই নারী ফিরে না আসায় বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে স্যুটকেস খুলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ মোড়ানো অবস্থায় পায়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

নিহত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামীম হোসেন।

×
10 May 2026 17:19


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

হত্যার পর স্যুটকেসে কীভাবে লাশ ভরেন, জানালেন রোজিনা

Update Time : ০৩:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ফরিদপুরের বাসস্ট্যান্ডে স্যুটকেস থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার রোজিনা আক্তার ওরফে কাজল (৩২)। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসিম মাহমুদের আদালতে এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে তিনি ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন। এ সময় এ মামলার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাহিন্দ্রাচালক মো. জানু ব্যাপারী (৪৮) ও রিকশাচালক মো. তাবেল ব্যাপারী (২৫)।

এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস বলেন, জবানবন্দি শেষে বিকেল ৫টার দিকে আদালতের নির্দেশে রোজিনাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

‘তুমি রোজিনা? আমরা ফরিদপুরের পুলিশ’

গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ছাই রঙের লাগেজ (স্যুটকেস) তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ স্যুটকেসের তালা ভেঙে মাথা, হাত ও পা গোটানো অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, লাশটি মিলন প্রামাণিকের (৩৯)। তিনি পাবনা সদরের নতুন গোহাইবাড়ি মহল্লার কাশের প্রামাণিকের ছেলে। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায় ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস জানান, আদালতে রোজিনা মিলন প্রামাণিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ধার দেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়া, তাঁকে গালাগালি করা—এসব ক্ষোভে মিলনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি লাশটি কীভাবে গুম করার চেষ্টা করেন, তার বর্ণনা দেন।
এর আগে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ রোজিনাকে আদালতে সোপর্দ করে। রোজিনা জবানবন্দি না দিলে তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছিল পুলিশ।

ফরিদপুরে তালা ভেঙে একটি স্যুটকেস খুলতেই পাওয়া গেল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী স্যুটকেসটি রেখে গিয়েছিলেন।

বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ ভোরে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ের দিক থেকে মাহেন্দ্র গাড়িতে করে বোরকা পরিহিত এক নারী ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে ওই বৈদ্যুতিক খুঁটির সামনে আসেন। মাহেন্দ্র থেকে স্যুটকেসটি নামিয়ে তিনি চলে যান। এতে তাঁকে সহযোগিতা করেন একই মাহেন্দ্র গাড়িতে আসা তিন থেকে চার ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় ওই নারী ফিরে না আসায় বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে স্যুটকেস খুলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ মোড়ানো অবস্থায় পায়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

নিহত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামীম হোসেন।

×
10 May 2026 17:19