০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর বিআরটিএ-তে হয়রানি; অনিয়ম আর দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • ৪২২ Time View

মিরপুরে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কার্যালয় প্রতিদিন শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য সেবা নিতে এই অফিসে ভিড় করে। কিন্তু সরকারি এই অফিসটি আজ নানা অভিযোগে জর্জরিত। গ্রাহক হয়রানি, অনিয়ম, ঘুষবাণিজ্য ও সক্রিয় দালাল চক্র যেন এখানকার নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণ নিয়ম মেনে আবেদন করলেও দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। লাইসেন্স পেতে তিন মাস অপেক্ষা করার কথা থাকলেও, দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স করলে বিদ্যুৎ গতিতে পাওয়া যায়। হয়রানি ছাড়াই দ্রুত লাইসেন্স পাওয়া যায় শুধু অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে।
মিরপুর বিআরটিএ চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দালালদের সরব উপস্থিতি। তারা অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে আগত গ্রাহকদের টার্গেট করে। কেউ নতুন, বিভ্রান্ত বা তাড়াহুড়ায় থাকলেই তাদের ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব দেয়। তারা এমনভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলে, যেন ভিতরে তাদের ‘বিশেষ যোগাযোগ’ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দালালদের অনেকেই অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে।
অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স রিনিউ বা রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ সময়মতো হয় না। কিছু কর্মকর্তা আকারে-ইঙ্গিতে গ্রাহকদের দালালের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ জানায়, ফাইল হারিয়ে গেছে বলে নতুন করে আবেদন করতে বাধ্য করা হয়। যার পেছনে আবারও অর্থ লেনদেন জড়িত।
বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে দৃশ্যপট খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ডিজিটালাইজেশন চালু হলেও ‘মানব হস্তক্ষেপ’ না কমায় দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই সব কিছু নিয়মে চলুক। কিন্তু দালালদের পিছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া রয়েছে বলে তাদের ঠেকানো কঠিন।”
বিআরটিএ মিরপুর অফিসে চলমান অনিয়ম, হয়রানি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ জনগণ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ। পাশাপাশি, ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।

×
8 May 2026 19:04


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Jakir Patwary

জনপ্রিয় পোস্ট

সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

মিরপুর বিআরটিএ-তে হয়রানি; অনিয়ম আর দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য

Update Time : ০৭:২২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

মিরপুরে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) কার্যালয় প্রতিদিন শত শত মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য সেবা নিতে এই অফিসে ভিড় করে। কিন্তু সরকারি এই অফিসটি আজ নানা অভিযোগে জর্জরিত। গ্রাহক হয়রানি, অনিয়ম, ঘুষবাণিজ্য ও সক্রিয় দালাল চক্র যেন এখানকার নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণ নিয়ম মেনে আবেদন করলেও দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। লাইসেন্স পেতে তিন মাস অপেক্ষা করার কথা থাকলেও, দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স করলে বিদ্যুৎ গতিতে পাওয়া যায়। হয়রানি ছাড়াই দ্রুত লাইসেন্স পাওয়া যায় শুধু অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে।
মিরপুর বিআরটিএ চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দালালদের সরব উপস্থিতি। তারা অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে আগত গ্রাহকদের টার্গেট করে। কেউ নতুন, বিভ্রান্ত বা তাড়াহুড়ায় থাকলেই তাদের ‘সহযোগিতার’ প্রস্তাব দেয়। তারা এমনভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলে, যেন ভিতরে তাদের ‘বিশেষ যোগাযোগ’ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দালালদের অনেকেই অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে।
অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স রিনিউ বা রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ সময়মতো হয় না। কিছু কর্মকর্তা আকারে-ইঙ্গিতে গ্রাহকদের দালালের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ জানায়, ফাইল হারিয়ে গেছে বলে নতুন করে আবেদন করতে বাধ্য করা হয়। যার পেছনে আবারও অর্থ লেনদেন জড়িত।
বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে দৃশ্যপট খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ডিজিটালাইজেশন চালু হলেও ‘মানব হস্তক্ষেপ’ না কমায় দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই সব কিছু নিয়মে চলুক। কিন্তু দালালদের পিছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া রয়েছে বলে তাদের ঠেকানো কঠিন।”
বিআরটিএ মিরপুর অফিসে চলমান অনিয়ম, হয়রানি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ জনগণ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ। পাশাপাশি, ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।

×
8 May 2026 19:04