
দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারিতে জরজরিত পাবনার নগরবাড়ীঘাট সংলগ্ন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পাবনা শাখা। এক সময় স্থানীয় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বিতর্কের তুঙ্গে। একাডেমির দায়িত্বে থাকা মেরিনার ক্যাপ্টেন তৌফিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং নারী হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, তৌফিকুল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছেন। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ তার বিরুদ্ধে নারীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলেন, একাডেমিতে তিন নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন তৌফিকুল। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাদেরকে অনৈতিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভুক্তোভোগী নারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাদের পাওয়া যায়নি। তবে, পিংকী নামে এক নারীর সঙ্গে এই কর্মকর্তার সক্ষতা এবং পিংকী ও তার স্বামীর রাতারাতি চাকরি হওয়ার ঘটনায় নানান প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি কর্মচারীর মাসিক বেতন থেকে ৭৩৫ টাকা করে কেটে রাখেন তৌফিকুল। কিন্তু এর কোনো রশিদ দেন না তিনি। এছাড়া নিজের এলাকার মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের ঢালাও ভাবে নিয়োগ দিয়ে ভরে রেখেছেন একাডেমি।
উন্নয়নমূলক কাজে নিয়মিত টেন্ডার দেওয়ার বিধান থাকলেও তা উপেক্ষা করে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে কাজ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উল্লাপাড়ার ইমরান নামের এক যুবক দীর্ঘ তিন বছর ধরে একাডেমিতে খাদ্য সরবরাহ করে আসছেন। অথচ তার নামে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ইমরান মূলত ক্যাপ্টেন তৌফিকের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন এবং ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে আভ্যন্তরীণ সব কাজ তিনিই পরিচালনা করেন।
তৌফিকুলের মেয়েকে কানাডায় থাকেন। অভিযোগ রয়েছে মেয়ের মাধ্যমে বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার করছেন তিনি।
বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয় ও দুর্নীতি শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নয় বরং পুরো জাতির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
Reporter Name 








