সাভার বিরুলিয়ার গ্রাম উন্নয়ন কমিটির জমি ভূমি দস্যুদের কবলে : নেপথ্যে রয়েছে কমিটি


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২২, ১১:৪৯ অপরাহ্ন / ৫৮২
সাভার বিরুলিয়ার গ্রাম উন্নয়ন কমিটির জমি ভূমি দস্যুদের কবলে : নেপথ্যে রয়েছে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকার অদূরে সাভার বিরুলিয়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির নামে থাকা ৩৩.৭৪ একর জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।তৎকালীন বিরুলিয়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির বিরুদ্ধে। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি থাকার সত্বেও উন্নয়নে আসেনি গ্রামবাসীর কাজে।উন্নয়ন হয়নি রাস্তা ঘাটের। উন্নয়ন হয়নি স্কুল-মাদ্রাসা ও মন্দিরের।উন্নয়ন হয়নি এলাকার কোন কল্যাণে।এলাকার উন্নয়নের তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি শত শত কোটি টাকার সম্পদ

এলাকা সূত্রে জানা যায়, বিরুলিয়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির নামে শত শত কোটি টাকা সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও গ্রামবাসীর ও গ্রামের দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের না আসলেও গুটি কয়েক লোকের উন্নয়নের হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করা হয়েছে পানির দরে।গুটি কয়েক লোক হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।কমিটির গুটি কয়েকটি লোকের দুর্নীতি অনিয়মের কারণে শত শত কোটি টাকার সম্পদ এখন অন্যের দখলে।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, বিরুলিয়া গ্রামের জনসাধারণের কথা চিন্তা করে। বিরুলিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নিত্য হরি সাহার পুত্র ভানু চন্দ্র সাহা নামে রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় বিগত এস,এ, ও আর, এস শুদ্ধভাবে রেকর্ডভুক্ত করিয়া। ভানু চন্দ্র সাহার স্বত্ব সৃষ্টি হয় নাই মর্মে বিগত ১৯/০৬/১৯৭০ তারিখে ঢাকা সদর জয়েন্ট সাব রেজিস্টার অফিসে না দাবী নামা দলিল হয় যার দলিল নং- ৫২২৯ দ্বারা বিরুলিয়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির এর পক্ষে ৮ জনের নামে দলিল সম্পাদনে রেজিস্ট্রি করিয়া দেন। উল্লেখ, যাহা বিরুলিয়া গ্রামের জনসাধারণের স্বার্থে ও অর্থে অর্জিত তাহা বিরুলিয়া গ্রামবাসী ব্যবহার করিবে। আরো উল্লেখ, বিরুলিয়া জনসাধারণের পক্ষে আপনারা দলিল গ্রহিতা গন কেবল মাত্র তপশীল সম্পত্তি রক্ষনা বেক্ষন খাজনাদি আদায় করীতে পারিবেন। কিন্ত আপনারা দলিল গ্রহিতাগণ উহা কোন প্রকার হস্তান্তর করিতে পারিবেনা। তাহলে তপশিল সম্পত্তির দিগুণ মৌজা ৪ দাগের ৩৩.৭৪ একর জমি কাদের দখলে বা কারা ক্রয়/বিক্রি করেছেন!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরুলিয়া গ্রাম উন্নয়ন নামে থাকা জমির জমির বিষয়ে অনেকে জানেন না।কমিটির ইচ্ছা মত সবকিছু পরিচালিত হয়েছে।কমিটির লোকদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে রাজি হয়নি।বিরুলিয়া গ্রামের জনসাধারণ এদের কাছে জিম্মি ছিল।বর্তমান যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৫০০/৬০০ কোটি টাকার সম্পদ। গুটি কয়েক টি লোকের অনিয়মের দুর্নীতি কারণে বঞ্চিত হয়েছে বিরুলিয়া গ্রামের এর সাধারণ মানুষ। লাভবান হয়েছেন, ভূমিদস্যুরা। বর্তমানে এবস জমিতে রয়েছে পিয়াংকা শুটিং স্পর্ট, পেট্রোল পাম্প, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট, বালু গদি, রেডি মিক্স সহ বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জানতে চাইলে, তৎকালীন সভাপতি আবদুল কাদের মিয়া জানান, এই জমির নামজারি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশ্ন ছিল, তাহলে কিভাবে নামজারি ছাড়া  জমি বিক্রি করেন। তিনি বলেন দখল নিয়ে খাচ্ছে তারা। আমাদের হাতে নয় একর জমির একটি নামজারি খতিয়ান ও ডিসিয়ার ছিল, দেখার পর তিনি বলেন এটা আমরা করি নাই। প্রশ্ন ছিল, আপনি সভাপতি থাকাকালীন কোন জমি বিক্রি করছে কিনা। উত্তরে, না আমি কোন জমি বিক্রি করি নাই। আবার বলেন কিছু জমি বিক্রি করেছি। আমাদের হাতে একাধিক দলিল ছিল।একটা দলিল দেখানোর পর তিনি বলেন হ্যাঁ এটা আমি বিক্রি করেছি এটা অস্বীকার করার কিছু নাই, এবং স্বাক্ষর দেখে তিনি বলেন, হ্যাঁ এটা আমার স্বাক্ষর। এক যুগেরও বেশি তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল কাদের মিয়া। তিনি আরো বলেন, আমি সভাপতি থাকা অবস্থা গ্রামের প্রতিটি লোকের হাতে ১০০০ টাকা করে দিয়েছি এবং ১ কেজি করে প্রতিটি ঘরে মিষ্টি দিয়েছে।

জসিম উদ্দিন জানান, বিরুলিয়া উন্নয়ন কমিটির জমি বেশিরভাগই আত্মসাৎ করেছেন তৎকালীন আমলের সভাপতি(সচিব মহোদয়)।আর এসব জমির আয় ব্যয় অনিয়ম নিয়ে তৎকালীন একটি অভিযোগ হয় দুদকে তা নিয়ে দুদক তদন্ত করে সত্যতা পায়। জসীমউদ্দীন স্বীকার করেন তার আমলে অনেক জমি বিক্রি হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ দায়িত্বে ছিলেন জসীমউদ্দীন। জসিম উদ্দিন জানান উকিলের সাথে আলাপ আলোচনা করে এসব জমি বিক্রি করেছেন কমিটি।তিনি আরো জানান, অনেকে আবার জাল দলিল করে বসে আছেন। আমার জানা মতে ভানু চন্দ্রসাহার কোন ছেলে ছিল না। এখন দেখি তার ছেলে সেজে অনেকে এই জমির মালিক দাবি করেন। (পর্ব-১)