সাদা কালো সম্পর্কে কিছু কথাঃ লেখকঃ ইকবাল আহমেদ লিটন


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২২, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন / ১৩৫
সাদা কালো সম্পর্কে কিছু কথাঃ লেখকঃ ইকবাল আহমেদ লিটন

লেখকঃ ইকবাল আহমেদ লিটন: কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলা কী অপরাধ? কালোকে কালো বলা যদি অপরাধ না হয়ে থাকে তাহলে আপনার “বিবেক” পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদালত। প্রশ্ন করেন নিজ বিবেকের কাছে আর কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা বলুন আওয়াজ করে। বাংলা ভাষায় একটি চিরন্তন প্রবাদ আছে “অপ্রিয় সত্য কথা বলতে নেই” আসলেই কি তাই? আমি অবশ্য এটা মানতে নারাজ। আমার কাছে এর স্বপক্ষে অবশ্যই যুক্তি আছে। আমি মানুষ হিসাবে যদি নিজেকে একজন সত্যিকারের মানুষ মনে করি তাহলেই এই প্রবাদ যে কারো কাছেই অসার বলে প্রতীয়মান হবে। আমাদের একটি বাজে স্বভাব হল সামনে কাউকে দোষারোপ করতে না পারা। কিন্তু আড়ালে চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ছাড়ি। যার মোট কথা কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা না বলতে পারা। আমি এই ভেবে গর্বিতবোধ করি যে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। আমার নিজস্ব একটি রাজনৈতিক চেতনা আছে, আছে ন্যূনতম মূল্যবোধ সম্পন্ন রাজনৈতিক আদর্শ। স্বভাবতই এখানে যখন অনিয়মই নিয়ম আর নিয়ম
যেখানে অনিয়ম সেখানে কিই বা আর বলার থাকে। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় কিছুই কি বলার নেই? আছে তবে তার জন্য চাই সৎ সাহস, নিজকে মানুষ মনে করা আর প্রতিবাদী চেতনা। সেটাতে যদি নিজের জীবন বিসর্জন দিতে হয় তবুও আমি মনে করি গর্বের ব্যাপার। পাঠক আমি মনে প্রানে বিএনপি ও তার মিত্র জামাতকে ঘৃণা করি। বিএনপি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

#এখনআসিমুল_বিষয়েঃ
বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের নাম বিএনপি, ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর তৎকালীন জিয়াউর রহমান এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ক্যান্টনমেন্টে বসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা ইংরেজিতে Bangladesh Nationalist Party (BNP) নামে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় কয়েকবার বিএনপি সরকার ছিলেন। আমরা অনেকেই জানি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সামান্যই পূরণ করতে পেরেছিলেন। নির্বাচনী ইশ্তেহারে প্রকাশিত ৩২টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের শতাধিক অংগীকার এর মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি তারা পূরণ করেছিল। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সিদ্ধান্তহীন থেকেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা ছিল সীমিত আয়ের মানুষ। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে দেখা দিয়েছিল মঙ্গা। বাংলাদেশে যেসব সাধারণ অপরাধ ঘটে তার বিপরীতে অপরাধের জায়গা দখল করে নিয়েছিল বোমা হামলা, ইসলামি জঙ্গিবাদ আর সন্ত্রাসবাদ। নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গিয়েছিল সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সাংসদ এবং শিক্ষাবিদসহ সবার মাঝে।

সরকারী এবং বেসরকারি কাজ পেতে হাওয়া ভবনে কমিশন দেওয়ার ঐতিহ্য স্থায়িত্ব পেয়েছিল বিগত সেই সময়। বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হলেও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ বেড়ে উঠেছিল বেশী। বাংলাদেশ ছিল তখন বিশ্বের দরবারে শীর্ষ দুর্নীতির দেশগুলোর মধ্যে একটি। চার দলীয় জোট সরকারের ২০০১-২০০৬ এ সীমিত আয়ের সাধারণ মানূষজন ভালো ছিলনা একেবারেই বললে চলে। মানুষের আয় যতটুকু বেড়েছিল জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়েছিল তার চেয়েও কয়েকগুন বেশী। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হওয়ার দুর্নাম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রক্ষা করতে পারেন নাই। বরং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এর সময়েই আরও চার বার দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে শীর্ষ স্থান দখল করে ছিল বাংলাদেশ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশের সাধারন মানুষ। বিদ্যুতের দাবিতে রাস্তায় নেমে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছেন অনেকেই। রাজধানীর শনির আখড়ায় বিদ্যুৎ ও পানির দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা সাধারন মানুষের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে প্রতিশ্রুতি পুরনে ব্যর্থ তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদকে।

জীবনযাত্রার সংগে তাল মেলাতে না পেরে রাস্তায় নেমেছিল দেশের সবচেয়ে বেশী রপ্তানি আয়কারী তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মুল্যস্ফীতি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়কে বাড়িয়ে দিয়েছিল। মন্ত্রীরা তাদের ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছিলেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে। কার্যত এ বিষয়ে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও কোন সমন্বয় ছিল না। কাজ পেতে হলে বিশেষ বিশেষ স্থানে কমিশন দিতে হতো-এ কথা তখন মানুষের মুখে-মুখে প্রচলিত ছিল। কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটা বিশেষ গোষ্টী তৈরি হয়েছিল চার দলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলেই। এরা সবাই ছিল প্রভাবশালী, নেতা-নেত্রীদের আত্মীয় ও ঘনিষ্টজন। সরকারের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ ও নানা দুর্নীতির সঙ্গে তারেক জিয়ার নিয়ন্ত্রিত হাওয়া ভবন এর নাম প্রচারে এসেছিল বারবার। চার দলীয় জোট সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই একের পর এক খুন, ডাকাতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক বেড়ে গিয়েছিল। এ সময়ে দেশব্যাপী জঙ্গি সন্ত্রাসের উত্থান ঘটেছিল। আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থ মন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও সাংসদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার হত্যাকান্ড দেশে অস্থিরতা নিয়ে এসেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। ওই সময়ে নিহত হন ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে; বিএনপি বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কি আসলেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী? আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে; বিএনপি নামের এই রাজনৈতিক দলটি জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মদদদাতা দল। তারা জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী নয় বরং তারা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদী চেতনায় বিশ্বাসী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা যারা করেছিলেন তাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া। ক্ষমতায় বসার লোভ সামলানো আসলে বড়ই মুশকিল সেটা তিনি (জিয়া) ইতিপূর্বে প্রমান করে পরপারে চলে গেছেন। জিয়ার তৈরি দলের বর্তমান নেতৃত্বে যিনি রয়েছেন সেই খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান যখন বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর সপ্নে বিভোর ছিলেন জামায়াতে ইসলাম এবং তথাকথিত কিছু মৌলবাদী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তখন বাংলার সাধারণ জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নামের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের দলকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন ২০০৯ সালে।

আমরা দেখেছি বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন দেশে খুন, সন্ত্রাস, জঙ্গি তৎপরতা ক্রমাগত লেগেই ছিল। তৎকালীন বিরোধী দলকে (আওয়ামীলীগ) পুলিশ এবং বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার এবং সন্ত্রাসী দিয়ে অনেক জুলুম এবং অত্যাচার তারা করেছিলেন। অত্যাচার এর সবচেয়ে বড় উদাহরন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন দেশবাসীকে।

জিয়ার আমলেই জামায়াতে ইসলাম রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে। জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র এর কথা বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামকে এই বাংলার মাটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সুবিধা করে দেন। যারা (রাজাকার) আমাদের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছিলেন তারাই বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার সাহস পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের কারনেই।

আমরা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবো যে; বিএনপির নেতা কর্মী থেকে শুরু করে বিএনপিকে যারা সমর্থন করেন এরা সবাই পাকিস্তানপন্থি বা পাকিস্তান প্রেমী! ব্যাপারটি খুবই আজব বটে! নিজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে হাজার মাইল দূরের একটি দেশ যাদের সাথে আমাদের ভাষার অমিল, সংস্কৃতির অমিল এবং অনেক কিছুই যাদের সাথে আমাদের অমিল রয়েছে এরকম একটি দেশকে বাংলার মাটিতে বসে তাদের ভালোবেসে কি লাভ? তারা মুসলমান এই কারনে? শুধু মুসলিমরা মুসলিমদের ভালবাসবে এবং অন্য ধর্ম্যালম্বি যারা রয়েছেন তাদেরকে ঘৃণা করতে হবে এ কথা কোন কিতাবে লেখা আছে? কেউ কি সেটা আমাকে দেখাতে পারবেন? আল্লাহ্ মানুষ সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর সকল মানুষ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের তৈরি। সুতরাং ধর্মীয় ভেদাভেদ কেন তাদের মাঝে?(বিএনপি-জামায়াতে ইসলাম এর সমর্থনকারীদের)

আজ কিছু ধর্মান্ধ মানুষের কারনে কিছু উগ্র রাজনৈতিক দল ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে প্রতারিত করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে জামায়াতে ইসলাম নামক রাজনৈতিক দলের অবস্থান সবার উদ্ধে। ধর্ম নিয়ে এদের কাজ কারবার। ধর্মের দোকান খুলে বসেছেন এরা (জামায়াতে ইসলাম)। অনেক আগে থেকেই এদের পথের সঙ্গি হয়েছেন বিএনপি। বিএনপি যেদিন থেকে জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক সঙ্গি হয়েছেন সেইদিন থেকে অনেক মানুষ বিএনপির উপর থেকে তাদের সমর্থন তুলে নিয়েছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন দেশনেত্রী বেগন খালেদা জিয়া! কিন্তু আমাদের দেশের শান্তি প্রিয় মানুষের কাছে বিএনপির সভানেত্রী এখন জঙ্গি মাতা নামে বেশী পরিচিত। তার পুত্র তারেক রহমান বিস্তর অর্থের মালিক। তাছাড়া তারেক রহমান এত বিপুল অর্থের মালিক হবেন না কেন? তার মা (খালেদা জিয়া) একের অধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গড ফাদার! বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিল পাস না হয়ে বরং হাওয়া ভবনে বিল পাস করতেন এই তারেক জিয়া। ইলেকট্রিক খাম্বা থেকে শুরু করে বাংলার পথ ঘাটের চাঁদাবাজি কোনটাই তিনি বাদ দেননি। আমি যতদূর জানি, মুরুব্বীদের সম্মান করতেননা তারেক জিয়া এবং করেন ও না। সন্ত্রাসীদের লালন পালন করতেন এই তারেক জিয়া। যত কুকর্ম হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এর প্রত্যেকটা কুকর্মের মধ্যে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। নারী, মদ, টাকা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতেন জনাব তারেক রহমান। আমার কথাগুলো শুনতে বেমানান কিন্তু এগুলোই বাস্তব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশে তিনি আর রাজনীতি করবেননা এই শর্তে তাকে মুচলেকার মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তারেক রহমান চিকিৎসার নাম করে এখন বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর বাংলাদেশে যত জঙ্গি তৎপরতা হচ্ছে তার পেছনে মদদ দিচ্ছেন। তার মায়ের (খালেদা জিয়া) কথা জনাব তারেক রহমান কোনদিন শুনেছেন কিনা আমার সেটা জানা নেই। কারন তারেক জিয়া নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট এর চেয়েও বড় মনে করতেন এর পেছনের কারন হচ্ছে; কোন এক সময় তিনি হাওয়া ভবনের পরিচালক ছিলেন। হাওয়া ভবনের পরিচালকের হুকুম আগে পালন করা হতো প্রধানমন্ত্রী অথবা অন্য মন্ত্রীদের হুকুমের আগেই। তারেক রহমান এর ধারণা তার পিতা (জিয়া) বাংলাদেশ স্বাধীন করে গিয়েছেন। অবশ্য তার এই ভ্রান্ত ধারণা হতেই পারে। কারন তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিলোনা। সুতরাং অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

এখন আসি, আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে, বেগম জিয়ার রাজনীতিতে প্রবেশ- গৃহবধু থেকে বর্তমানে বিএনপির সভানেত্রী। আর দেশরত্ন শেখ হাসিনার রাজনীতিতে প্রবেশ তিনি তার ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করেছিলেন। তিনি যখন কিশোরী ছিলেন তখন থেকেই রাজনীতির জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, কারন তার পিতা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সুস্থ রাজনীতি কীভাবে করতে হয় তা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভালো করেই জানেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য রাজনৈতিক পরিবারের কন্যা (The daughter of a prominent political family)

রাজনীতি বা Politics হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যদিও রাজনীতি বলতে সাধারণত নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়, তবে অন্যান্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাজনীতি কতৃত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে গঠিত সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক আচরণ শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহণ ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে। সুতরাং রাজনীতি করতে হলে অবশ্যই তাকে শিক্ষিত, দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণ হতে হবে। যারা নিজ মাতৃভূমিকে প্রানের চেয়ে বেশী ভালোবাসেন তারা যদি রাজনীতি করেন এবং তাদের দ্বারা যদি দেশ পরিচালিত হয় তবে সেই দেশে অনেক উন্নয়ন হয়। দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে অনেকেই বলেন শেখের বেটি। আসলেই তিনি শিক্ষিতা, দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণ নারী। রাজনীতির ময়দানে দেশরত্ন শেখ হাসিনা এগিয়ে রয়েছেন খালেদা জিয়ার তুলনায় অনেক বেশী। তাইতো বাংলার জনগণ শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন বলে সম্বোধন করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সবার অবদান রয়েছে এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের অনেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগ এবং অবদানকে অস্বীকার করেন! এদের কি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা আছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠা করা দল আওয়ামীলীগকে সমর্থন দিলে আমি আমার বিবেক কে সান্ত্বনা দিতে পারি। আমার জানি; বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য, তিনি যদি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব না দিতেন তাহলে আজো হয়তো আমরা পরাজিত জাতি হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেতাম। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি এবং আমার নেতা মনে করি। বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসার কারন হচ্ছে আমি তাকে নিয়ে অনেক ইতিহাস পরেছি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত জেনেছি তত তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি জানতে পেরেছি স্বাধীন বাংলাদেশের জনকের নাম। কারন ইতিহাস কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। আমি যখন স্কুল এ পড়তাম (জাতীয় পার্টি এবং বিএনপি সরকারের আমলে) তখন আমি বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে ভালো করে জানতাম না। কারন আমি আমার আশেপাশে বিকৃত ইতিহাসের ছড়াছড়ি দেখতে পেয়েছিলাম। আমি যত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে পড়েছিলাম তত বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে নিজে জানতে পেরেছিলাম।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আমি সমর্থন করি কারন তার মাঝে আমি বিচক্ষণতা দেখতে পাই। আমি জানি তিনি খুবই সরল মনের ধার্মিক মানুষ। তার মতো যোগ্য নেত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থাকলে আমাদের নিরাপত্তাহিনতায় না খেয়ে থাকতে হবেনা এবং আমি এটাও বিশ্বাস করি যতদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা ততদিন আমরা সাধারণ জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারবো। একদিন বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত ধনী দেশের কাতারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ কে জাতিসংঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে এক জরিপে জানানো হয়েছে!
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ বিরাট অর্জন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা! ১৭ মার্চ, ২০১৮ ইং ১৫:২৮ মিঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এটি জাতির জন্যে এক বিরাট অর্জন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি।’ সেজন্যে প্রধানমন্ত্রী সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আজ শনিবার দুপুরে এখানে জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন তিনি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কাতারেই আজ বাংলাদেশের অবস্থান। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো।

এখন আসি বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে; বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে বিদেশী রাষ্ট্রের গোলামী করে চলা। বিদেশী প্রভুদের নির্দেশে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। আপনারা আমার লেখা একটু খেয়াল করে পড়লে বুঝতে পারবেন আমি কি বলতে চাইছি; বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা করার কথা বলে লন্ডনে পাড়ি দেওয়ার কিছুদিন পরেই ঢাকায় খুন হলেন বিদেশী নাগরিক। রাজধানী ঢাকার গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার নিহত হয়েছেন। ইতালীয় নাগরিককে হত্যা করার দায় নাকি স্বীকার করেছেন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)! বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমন ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ আবার এ তথ্য জানায়! পৃথিবীতে এত দেশ থাকতে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা নজরদারি করেন আর অন্য দেশগুলো নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন? ব্যাপারটি হাস্যকর বটে! একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কিছু সময় পরিশ্রম করতে হয় ইন্টারনেট এ বসে। এখন কেউ যদি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)এর নামে ওয়েবসাইট তৈরি করে মানুষ হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং নিজেদের আইএস এর জঙ্গি বলে দাবী করেন সেটাও তো আগে ভালো করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই নয় কি? ইমেইল এবং ওয়েবসাইট তৈরি এখন প্রযুক্তির ব্যাপার। যে কেউ এই কাজ খুব সহজেই করতে পারেন। সুতরাং আমেরিকার সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ যে তথ্য দিয়েছে এই তথ্য কতটা সত্যি এবং সঠিক এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা দরকার আমাদের সরকারকে। আমি মনে করি; বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামে কোন জঙ্গি সংগঠন নাই। আওয়ামীলীগ সরকার বর্তমানে জঙ্গি দমনে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। এই সরকারের আমলে দেশে জঙ্গিদের তৎপরতা থাকবে এটা আমি বিশ্বাস করিনা। যদি বিএনপি-জামায়াতে ইসলাম জোট সরকারের আমল হত তাহলে বাংলাদেশে জঙ্গিরা অবাধে বিচরন করতে পারতেন কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার জঙ্গিদের সাথে কোন কালেই আপোষ করেন নাই এবং জঙ্গিদের অবাধে বিচরন করার সুযোগ কখনো করে দেন নাই যে জঙ্গিরা বাংলাদেশে বসে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা সহজেই চালাবে।

আসলে মূল ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশকে বাইরের বিশ্বের কাছে ছোট করার জন্য বিএনপি-জামায়াতে ইসলাম এখন উঠে পড়ে লেগেছেন। বিএনপির বর্তমানে কোন রাজনৈতিক ইস্যু নাই। কারন বাংলাদেশের রাজনীতিতে পশ্চিমাদের তাবেদারি করে হয়তো কিছুদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে কিন্তু সেই ক্ষমতায় বসে দেশের উন্নয়ন কখনই করা সম্ভব হবেনা বলে আমি মনে করি। কারন পশ্চিমারা তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পৃথিবীতে অনেক নোংরা কার্যকলাপ ইতিপূর্বে করেছেন সেটা অনেকের অজানা থাকার কথা নয়।

#পরিশেষেবলতেচাই, যারা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি মুক্ত দেশ হিসেবে দেখতে চায় তারা কখনই বিএনপি-জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন দিবেনা। বর্তমানে সকল দেশপ্রেমিক জনগণ এবং তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল আওয়ামীলীগ কে সমর্থন দিচ্ছে এবং আমার বিশ্বাস একদিন বাংলাদেশের সকল মানুষের মাঝে বিবেক জাগ্রত হবে, আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ ভালো খারাপের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। রাজাকার আর জঙ্গি-সন্ত্রাসি দ্বারা পরিপূর্ণ দলগুলিকে বাংলার সকল শ্রেণীর মানুষ বয়কট করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বের সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বহুকাল টিকিয়ে রাখবেন বলে আমি আশাবাদী।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ,ইকবাল আহমেদ লিটন ,সদস্য সচিব ,আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ ও অভিযোগ বার্তার প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক ।