সুজানগর সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতির মহাউৎসব।


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৪, ১:৪৬ অপরাহ্ন / ১৫৭
সুজানগর সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতির মহাউৎসব।

রাকিব হাসান : সুজানগর সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার আবু বক্করের  বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদ করায় ওই কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগিরা। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন ব্যাক্তির সংখা অনেক। অভিযোগে জানা  যায়, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি   অফিসে যোগদান করার পর থেকেই আবু বক্কর সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরেছেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না । ওই অফিসে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। সেখানে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এমন মাত্রায় পৌছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার পরও কাজ হয় না। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতে তাদের নথিপত্র পর্যন্ত গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে। জাল দলিলে জমির নামজারি হয়ে যাচ্ছে অন্যের নামে। নামজারি, খারিজ, খাজনা প্রদানসহ অন্যান্য কাজে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রকাশ্যে ঘুষ, দুর্নীতির মহোৎসব চলছে পাবনা সুজানগর সাতবাড়িয়া ভূমি অফিসে। এই অফিসে তহসিলদার আবু বক্করের অনিয়মই নিয়ম ।
সরকার কর্তৃক ভূমির খারিজের ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও খাজনা দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ) সরকার নির্ধারিত ফির চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয় কিন্তু  রসিদ দেওয়া হয় সরকারি হিসাবেই । এভাবে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন  এই কর্মকর্তা। দৌরাত্ম্য বেড়েছে দালাল সিন্ডিকেটেরও। ১২ জন দালালের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে টাকা নেওয়া হয় ।
সরেজমিনে দেখা যায় , ভূমি অফিসে নামজারি, জমাভাগ, খাজনা আদায়, এখন সব কিছু অনলাইন ভিত্তিক হলেও  জমির পর্চা (খসড়া) তোলা সহ সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে  । চুক্তির টাকা ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না এখানে। তার দুর্নীতির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ভূমি মালিকেরা। তহসিলদার আবু বক্কর দিনের পর দিন দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ জনগণ ও নিরীহ মানুষের নিকট হতে। ঘুষখোর এই ভূমি কর্মকর্তা তাঁর ইচ্ছামত দুর্নীতি করে চলেছেন। এই ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি রোধে দুদুকের সু—হস্তক্ষেপ জরুরি।

প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানায়, আমি এখানে নতুন আসছি, আমরা এখনো কোন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পায়নি যদি কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয় তবে আমরা তা তদন্ত করবো এবং  প্রমানিত হলে যথাযত ভাবে তার ব্যবস্থা গ্রহন করবো ।
অভিযোগের বিষয়ে, তহসিলদার আবু বক্কর বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা । আমি এখানে পড়াশোনা করছি, এখানে দুই যুগের বেশি বছর ধরে চাকরি করতেছি। আমার ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষ সবকিছু জানে।