লুটপাটের স্বর্গরাজ্য পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল। নেপথ্যে জগবন্ধু’র সিন্ডিকেট


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৪, ৯:৫১ অপরাহ্ন / ৩৮৯
লুটপাটের স্বর্গরাজ্য পাকশী রেলওয়ে হাসপাতাল। নেপথ্যে জগবন্ধু’র সিন্ডিকেট

রেল মেডিকেলের লুটপাট, মালামাল না কিনে অর্থ আত্মসাৎ, চাহিদাপত্তে স্বাক্ষর করেন চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী, মেডিকেল বিভাগে রোগী না থাকলেও, প্রতি মাসে নেয়া হচ্ছে ওষুধ, খরচ দেখানো হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। থাকেন না চিকিৎসকও। অবহেলা অযন্তে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার মেশিন। ঠিকাদারি কাজে মালামাল গ্রহন না করে চালানে স্বাক্ষরসহ দূর্নীতির মহোৎসব চলছে পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে।

এই যেন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। নেই রোগী, তবুও প্রতিমাসেই নেয়া হচ্ছে বরাদ্দকৃত ওষুধ, দেখানো হচ্ছে নিয়মিত ষড়ঞ্জামাদির খরচ, কাগজে কলমে চলছে ঠিকাদারি কাজও। বলছি বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী মেডিকেল বিভাগের কথা। পাকশি রেলওয়ে হাসপাতালে চাকরি বিধি লঙ্ঘন, ঠিকাদারি কাজে কমিশন বাণিজ্য, ওষুধ চুরি, দায়িত্বে অবহেলাসহ কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল জগবন্ধু’র চাহিদা পত্রের বিপরীতে পাকশী ডিভিশনের ডিএমও ডাঃ শাকিল আহমেদ চারটি চাহিদা পত্র প্রদান করেন। সেই চাহিদা পত্রে অ্যারোসল স্প্রে, হুইল ব্যারো, স্প্রে মেশিন, হ্যান্ড ওয়াশ, হারপিক লিক্যুইড, ভিম লিক্যুইড, ফুল ঝাড়ু, ডি অয়েল, বাকেট, গ্লাস ক্লিনার ইত্যাদি বাবদ ব্যয় ধরা হয় ৪৫ লাখ টাকা। অথচ হাসপাতালে গিয়ে এসবের কোন আলামতই মেলেনি।
শুধু তাই নয়, ঠিকাদারি কাজে মালামাল গ্রহন না করে চালানে স্বাক্ষর, কমিশন গ্রহণ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে দিয়ে চাহিদাপত্র তৈরী করে ২ কোটি টাকার বেশি লুটপাটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই হাসপাতালের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে রোগির উপস্থিতি না থাকলেও, কেন প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা ব্যায় হচ্ছে, কেন এই হাসপাতালের এই বেহাল দশা জানতে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে কোন স্বদুত্তর মেলেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, পাকশী হাসপাতালের একজন জানান, জগবন্ধু উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। রহস্যজনক কারনে সেনেটারি ইন্সপেক্টর জগবন্ধু প্রতি সদা দয়াবান কর্তৃপক্ষ। এই কারনে তার জবাব দিহীতা করতে হয়না। জগবন্ধু’র ক্ষমতা ও টাকার দাপট এতটাই যে, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয় না। তিনি আরো বলেন, জগবন্ধু জিমি করে রেখেছেন হাসপাতালের কর্মচারীদের কে। তার কথায় এখানে সব হয়। কারণ ডিএমও শাকিল আহমেদ তার আস্থাবাজন লোক। তাকে দিয়ে কেনাকাটা সহ কমিশন বাণিজ্য, অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রি, হাসপাতালে এরিয়ার গাছ বিক্রি, বদলি ডিউটি সহ অনিয়ম দূর্নীতি করে আসছেন। পদায়ন নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি, সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। আর এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি নিরীহ, সৎ, কর্মচারীরা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন।

এসবকিছু দেখভালের দায়িত্বরত ডিএমও ডাঃ শাকিল আহমেদকে অফিস চলাকালিন সময়ে খুজে পাওয়া যায়নি হাসপাতালে। অধিকাংশ সময়েই নাকি বিভিন্ন কাজে বাইরে থাকেন এই কর্মকর্তা।

অসামঞ্জস্যপূর্ণ চাহিদা পত্র সহ অভিযোগের বিষয়ে পাকশীর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত সেনেটারি ইন্সপেক্টর জগবন্ধু বিশ্বাস বলেন, আমি নিজের টাকা দিয়ে হাসপাতালে জন্য কেনাকাটা করি, চাহিদাপত্রে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথাই আমি স্বাক্ষর করেছি। এসব বিষয় আমার ডিএমও এর সাথে কথা বলেন।

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৪:৪০ অপরাহ্ণ
  • ৬:৫২ অপরাহ্ণ
  • ৮:১৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:১১ পূর্বাহ্ণ