মিরপুর মাজার পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : দুদকে


প্রকাশের সময় : জুলাই ১২, ২০২৩, ১২:২০ পূর্বাহ্ন / ১৫৫০
মিরপুর মাজার পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : দুদকে

মিরপুর হযরত শাহ আলী মাজার শরীফ প্রতিদিন হাজার হাজার লোক জেয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন। বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বৃহস্পতিবারে দেশের বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা ও মাজার ভক্তরা মিরপুর মাজার আসেন। এবং দেশের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও দেশ বিদেশের বড় অলি- আউলিয়াগন এসেছেন।
এবার হযরত শাহ আলী মাজার শরীফ কে নিয়ে (৪ জুলাই) জনস্বার্থে ওয়াকফ জমি দখল, মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়োগ, অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ সহ কাঁচা বাজার আড়ৎ কমপ্লেক্স ভাড়া দেওয়ার কথা বলে ফরম বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়ম দুর্নীতি মুক্তকরণের জন্য সাংবাদিক মোঃ আরিফ স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,
হযরত শাহআলী মাজার শরীফে মাদক ব্যবসায়ী কে ১০ লক্ষ টাকা বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ। ফরাস সহকারী ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মাজার পরিচালনা কমিটি। নিয়োগ কারীর নাম- মোঃ মিজান খান, পিতা: মোঃ সরোয়ার উদ্দিন খান, সাং – তালবাড়ীয়া খা বাড়ী, থানা- লোহাগড়া, জেলা- নড়াইল। বর্তমান -শাহা আলী মাজার শরীফ স্টাফ কোয়াটার, দক্ষিণ বিশিল, দারুস সালাম, ঢাকা। মামলার নাম্বার ২০/২২-৯-২০১১ইং শাহ আলী থানা, ডিএমপি, ঢাকা। মিজান খানকে একাধিকবার বহিষ্কার করা হয়েছে মাদক বিক্রির অভিযোগে। সর্বশেষ মিজান খান একশত বোতল ফেনসিডিল সহকারে ২২-০৯-২০১১ ইং তারিখে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

আরও জানা যায়, মাজার শরীফের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে বাড়িঘর তৈরি করে রেখেছেন। এদের বিরুদ্ধে পরিচালনা কমিটি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে, উল্টো তাদেরকে সহযোগিতা করে আসছেন বর্তমান মাজার পরিচালনা কমিটি। অবৈধ দখলদার থেকে প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লুটপাট জমি দখল ও চাঁদা আদায় করে আসছেন বহুদিন ধরে মাজার পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্য। যেমন মাজারের জমি দখল করা, মাজারে নামে রিসিট তৈরি করে চাঁদা আদায় করা। মাজার প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে কাঁচাবাজার বসিয়ে, গাড়ি ও ভ্যান গাড়ি থেকে রিকশা থেকে চাঁদা আদায় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। চাঁদাবাজির সাথে মাজার কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ।

মাজারে পশ্চিম দিকে, জলাশয় ভরাট করে, কাঁচাবাজার তৈরি করার উদ্যোগ নেন মাজার কর্তৃপক্ষ। মিরপুর মাজার শরীফ ওয়াকফ এস্টেট আওতাধীন কাঁচাবাজার আড়ৎ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সাইজের দোকান ঘর অত্র পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত শর্তাধীনে ভাড়া দেওয়ার জন্য বিগত ১১-০৫-২০২২ ইং তারিখ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকা ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় ৩৪০০ লোকের কাছে ১০০০ টাকা করে ফরম বিক্রি করেন করেন। ১০০০ টাকা করে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা ফরম বিক্রি করেন। কিন্তু মাজার কর্তৃপক্ষ এখন ওপেন টেন্ডার আহ্বান করে নাই। কিন্তু মাজারে গুঞ্জন শোনা যায়, ভিতরে ভিতরে টাকার বিনিময় গোপনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গোপনে বরাদ্দ দিয়ে এখান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাজার কর্তৃপক্ষ এন্ড পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।

মাজারে জমিতে দক্ষিণ বিশিল বিপনী বিতান মার্কেট নির্মানের করেন মাজার কর্তৃপক্ষ। তৎকালীন ওয়াকফ প্রশাসন দোকান মালিকদের কে বাড়া দিয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ বিশিল বিপনী বিতান মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন মাজার কতৃপক্ষ। কিছুদিন পর মার্কেট ভেঙ্গে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এতে প্রতিটি দোকান মালিকদের কাছ বড় অঙ্কের টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেন মাজার কর্তৃপক্ষ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান না দেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে মাজার কর্তৃপক্ষকে পরিচালনা কমিটিকে । ধারণা করা হচ্ছে ৩২টি দোকান থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমতি না নিয়ে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ওয়াকফ প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ভবন নির্মাণ করছেন অবৈধভাবে। রাজউক একাধিক ভাবে নিষেধ করার পরেও তড়িঘড়ি করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এদিকে ওয়াকফ প্রশাসক একাধিক ভাবে চিঠি দিয়েছে কাজ বন্ধ করার জন্য। ওয়াকফ প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভবন নির্মাণ করে অবৈধভাবে বিক্রি করার পায়তারা করছে মাজার কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা কমিটি।
জানা গেছে, ভূমি অফিসের চেয়েও ওয়াক্ফ অফিসে দুর্নীতি অনেক বেশি হয়। তবে দুর্নীতি প্রমাণ করা কঠিন। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে উৎকোচ ছাড়া কাজ করা দুরূহ। মোতোয়ালি নিয়োগ এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে।

অভিযোগের বিষয়, মাজার শরীফের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রদান এস এম হানিফ সাহেবকে। মুঠো ফোনে মাদক ব্যবসায়ীর নিয়োগের বিষয় জানতে চাইলে। তিনি বলেন, মাজার পরিচালনার কমিটির সভাপতি আছে, মাজারে ম্যানেজার, ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছে, তারা জানে। তিনি আরো বলেন, আমার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নাই।

এ বিষয়ে, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রাঃ) মিরপুর মাজার শরীফ ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা কমিটি। (সভাপতি) মাননীয় সংসদ সদস্য আগাখান মিন্টু সাহেব অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়, হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রাঃ) মিরপুর মাজার শরীফ ওয়াকফ এস্টেট এর (ম্যানেজার), মোঃ মোরশেদ আলম বলেন, আমি নামেমাত্র ম্যানেজার, আমি কাঠের পুতুলের মত, আমাকে যা বলে আমি তাই করতে বাধ্য। এসব বিষয়ে আপনি পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাথে কথা বলেন।

দুদক ও বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় এর বরাবর অভিযোগের বিষয়ে, আমাদের অনুসন্ধান চলমান। পর্ব -১।