মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২২, ৮:১১ অপরাহ্ন / ৭৭০
মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।

জাকির পাটোয়ারীঃ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মিরপুর এর কার্যালযয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

‘ঘুষ খাইলে কী হয়, জেল হয়, ফাঁসি তো আর হয় না’। এ মন্তব্য মিরপুর বিআরটিএ এক কর্মকর্তার। অনুসন্ধানেও বেরিয়ে এসেছে অনিয়মের নানা চিত্র। গাড়ির ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন, করতে গেলো ভোগান্তির বিস্তর অভিযোগ সেবা নিতে আসা মানুষদের। আছে আনসার সদ্যস ও দালালের দৌরাত্ম্য। দালালদের টাকা না দিয়ে কোনো কাজই হয় না।

শেট নং-২ এর ১১৬, ১১৭, ১১৮ নাম্বার রুমের অরুণ সরকার, মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট, বিরুদ্ধে  ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে । তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। প্রতিটি পাইলে টাকা ছাড়া তিনি স্বাক্ষর করেন না, টাকা দিলেই সব সমাধান হয়।

এক দালাল বলেন, প্রতি ফাইলের জন্য অফিসারদেরকে ২০০০ টাকা দিতে হয়। কোন ক্ষেত্রে তার পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। অফিসারদের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন।সব দোষ দালালের কিন্তু বড় দালাল অফিসারা।কথার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালিকানা বদলি ঘুষের টাকা। সবচেয়ে বেশি পেয়ে থাকেন সহকারী পরিচালক ইঞ্জিঃ মোঃ শফিকুল আলম সরকার, মোটরযান পরিদর্শক, শেখ মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ, এর একটি অংশ বিভাগীয় কর্মকর্তা নিয়ে থাকেন। শফিকুল আলম সরকার আসার পরে কাজের রেট থেকেও একটু অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে।তিনি অল্প টাকায় কাজ করেন না।

অনুসন্ধানে একটি গাড়ির প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ আমাদের হাতে আসে।যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ -২৩-২১৬২ বিআরটিএ ফাইলপত্র সূত্রে দেখা যায়, এ গাড়ির মালিক যৌথ ব্যাংক এবং ব্যক্তি মালিকানা কিন্তু ফাইলে কোন ব্যাংকের কাগজপত্র নেই। প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ উপরে বড় করে লেখা হচ্ছে ব্যাংকের চিঠি।প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে কিভাবে ব্যাংকের চিঠি ছাড়া পরিবর্তন করা হয়েছে।আরেকটি ঢাকা মেট্রো গ -৩৭-৭২৮৭ এই নাম্বার গাড়ীটি প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ ২০২০ সালে ইসু হলেও এখন পর্যন্ত মালিকানা পরিবর্তন করা যায়নি। দালাল বলছেন পাইলে পরিপূর্ণ কাগজপত্র না থাকার কারনে মালিকানা পরিবর্তন ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, যেসব গাড়ীর মূল মালিক নাই সেইসব মালিক থেকে ৩-৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রথমে একটা প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ দিয়ে থাকেন দালালরা। কয়েকমাস পর সুযোগ বুঝে মালিককে ডেকে নাম পরিবর্তন করেন দালাল সিন্ডিকেট এর বিনিময় কর্মকর্তারা নিয়ে থাকেন মোটা অংকের টাকা।আর এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন গাড়ি চোরের চক্রের সদস্যরা।

এক ভোক্তভোগী আক্ষেপ করে বললেন, যেখানে বিভাগীয় কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন সেখানে দূর্নীতি-অনিয়ম যদি হয়ে থাকে ।তাহলে ভুক্তভোগীরা কার কাছে যাবেন।

সহকারী পরিচালক আবুল বাশার আসার পর থেকেই এখানে দুই ডজন দালাল নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ।সরেজমিনে দেখা যায় এই সহকারী পরিচালকের আশেপাশের সবসময় ডজন খানিক দালাল দেখা যায়।আর এসব দালালদের কে টাকা না দিয়ে কাজ করা অসম্ভব।আর এদেরকে প্রতিটি ফাইল এর জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দিতে হয়।আর প্রতিটি ফাইল এর জন্য অফিসারদেরকে ১৫০০-২০০০হাজার টাকা করে দিতে হয়।ফাইল এর পিছনে দালালদের সংকেত চিহ্ন দেওয়া থাকে ।অফিসে অলিখিত দালালের টাকা না দিলে প্রতারণা আর বিভিন্ন রকম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ গ্রাহকদের।

এ বিষয়ে উপ-পরিচালকে রুমে একাধিক বার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভোগান্তির শিকার হতে হয় মিরপুর বিআরটিএ মালিকানার শাখা। সবচেয়ে এই শাখা অনিয়ম দুর্নীতি তথ্য রয়েছে এবং নানা অসংগতি। আনসার থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্য টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।মিরপুর কার্যালয়ের আনসার সদস্যদেরকে কাজ করে দিতে দেখা য়ায়।আনসার সদস্যের মধ্যে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে দালালী শুরু করছেন ।

প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে একাধিক বার গিয়েও সহকারী পরিচালক ইঞ্জিঃ মোঃ শফিকুল আলম সরকারের রুমে পাওয়া যায়নি।

মালিকানা পরিবর্তন শাখার প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ আবুল বাশারের রুমে পাওয়া গেলেও তিনি অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।