মাহফুজা আক্তারের নেতৃত্বে বিটিভিতে দুর্নীতির সিন্ডিকেট। ১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ। নির্বাচন কমিশনের টাকাও হরিলুট।


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৬, ২০২৪, ১২:২৭ অপরাহ্ন / ১৫৫
মাহফুজা আক্তারের নেতৃত্বে বিটিভিতে দুর্নীতির সিন্ডিকেট। ১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ। নির্বাচন কমিশনের টাকাও হরিলুট।

বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের সাময়িক চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত জেনারেল ম্যানেজার মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে দুদকের ২১ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়ার পর নতুন করে বিটিভির শিল্পী সন্মানীর ১৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে মাহফুজা আক্তার ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অনুষ্ঠান নির্মাণের নামে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ১৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে বিগত ১১ জুলাই ২০২৩ বিটিভির সদর দপ্তরের অনুষ্ঠান ক্রয় বিক্রয় ম্যানেজার মো: আজগর আলীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা
হয়েছিল। কমিটি গত আগস্ট মাসে মহাপরিচালক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এ ব্যাপারে বিটিভি কোন পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। জানা গেছে তদন্তে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলেও বিটিভির মহাপরিচালক জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা গ্রহন করেননি। এমনকি মন্ত্রনালয়েও এসক্রান্ত কোন প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়নি। অন্যদিকে মাহফুজা আক্তার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শিল্পী সন্মানীর বাজেট থেকে অর্থমন্ত্রনালয়ের কোন অনুমোদন ছাড়াই ১৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা সমন্বয় করেছেন যা বেআইনি এবং সরকারি আর্থিক বিধিমালার পরিপন্থী।

মাহফুজা আক্তার চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে ঢাকা কেন্দ্রে যোগদানের পর থেকে অর্থ শাখার তিনজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পরিচালক অর্থ আতাউর রহমান, সহকারি পরিচালক অর্থ মো: নূরুল কবীর এবং সহকারি পরিচালক অর্থ ও আয়নব্যয়ন কর্মকর্তা আবু জাফর মো: সালেহ যারা ইতিমধ্যেই দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সাথে যোগসাজশ করে অনুষ্ঠান শাখার আরও কিছু দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট করে ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনুষ্ঠান শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোল্লা আবু তৌহিদের নেতৃত্বে সাহরিয়ার মোহাম্মদ হাসান, মাহফুজার রহমান, মনিরুল হাসানদের সাথে নিয়ে মাহফুজা আক্তার তার একান্ত অনুগত কিছু অনুষ্ঠান প্রযোজক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী, ইয়াসির আরাফাত, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এরশাদ হোসেন, আব্দুল বাতেন, মাহবুবা জ্যামিন, ইয়াসমিন আক্তার, মাহেদুর রহমান ও অন্যান্যদের সাথে নিয়ে দুর্নীতির এক বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এরা সম্মিলিতভাবে সরাসরি অনুষ্ঠান, বিশেষ অনুষ্ঠান ও শিডিউল অনুষ্ঠানের নামে মাহফুজা আক্তারের কাছ থেকে অস্বাভাবিক বাজেট অনুমোদন নিয়ে বিটিভির শিল্পী সন্মানীর টাকার ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রের ডিজাইন শাখার কন্ট্রোলার মোহাম্মদ সেলিম মাহফুজা আক্তারের দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ডিজাইন শাখাকে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করেছেন।

বিগত ২৫ ডিসেম্বর বিটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের নামে গণহারে লুটপাট চালানো হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের ৪৮ হাজার টাকায় কেক কেনা হয়েছে। কোন অনুষ্ঠান নির্মাণ না করেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে তুলে নেওয়া হয়েছে ১৮ লক্ষ টাকা। এ ব্যাপারে তদন্ত করলেই ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অন্যদিকে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণের জন্য নির্বাচন কমিশন বিটিভিকে ২৬ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে মাহফুজা আক্তার বিটিভির অনেক আগেই পরিকল্পনা করা নির্বাচনকেন্দ্রিক ৬/৭ টি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান বিটিভির টাকায় নির্মাণ করা হলেও নির্বাচনের পর মাহফুজা আক্তার কোন বিল ভাওচার দাখিল না করেই নির্বাচন কমিশনের ২৬ লক্ষ টাকা থেকে ১৩ লক্ষ টাকা অগ্রিম উত্তোলন করে প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনিরুল হাসান, কন্ট্রোলার ডিজাইন মোহাম্মদ সেলিম ও মাহফুজা আক্তার নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। বাকি ১৩ লক্ষ টাকা দিয়ে বিটিভির মহাপরিচালক বিটিভির বিভিন্ন অকেজো গাড়ি মেরামতের কাজ করছেন বলে জানা গেছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি। বর্তমানে গাড়ি মেরামতের কাজগুলো হচ্ছে উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত আনোয়ার মটর্স নামে একটি ওয়ার্কশপে। যার মালিক বিটিভির মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলমের বন্ধু।

জানা গেছে মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে এত দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরেও এবং জিএম হিসেবে তার চলতি দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তথ্য মন্ত্রনালয় তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে তথ্য মন্ত্রনালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে রয়েছে মাহফুজা আক্তারের সুসম্পর্ক। মাহফুজা আক্তার উক্ত কর্মকর্তার বাসায় ৭ লক্ষ টাকায় বনজ, ফলজ ও ফুলের বাগান করে দিয়েছেন এবং বাগান পরিচর্যা ও উক্ত কর্মকর্তার বাসার কাজকর্ম করে দেওয়ার জন্য দুইজন লোকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের বেতন মাহফুজা আক্তার বিটিভি থেকে পরিশোধ করেন। এখন বিটিভির এসকল দুর্নীতির কর্মকাণ্ড মিডিয়ার কল্যাণে সারাদেশের মানুষ জেনে গেছে। কিন্তু ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিভির ভাবমূর্তি ও সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে যা অপূরণীয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ১৩ কোটি টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বিটিভি সংশ্লিষ্ট সকলের এটাই প্রত্যাশা।

নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০১ অপরাহ্ণ
  • ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
  • ৮:১৫ অপরাহ্ণ
  • ৫:১০ পূর্বাহ্ণ