গুজব সমাচার


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৯, ২০২২, ৯:২৩ পূর্বাহ্ন / ৩৭৩
গুজব সমাচার

ইকবাল আহমেদ লিটন: গুজবের আভিধানিক অর্থ হলো- রটনা, ভুল বা অসঙ্গত তথ্য প্রচার। এমন ”ভুল বা অসঙ্গত তথ্য” নিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই যেন কিছু মানুষ তা ছড়ানোর মতো বদঅভ্যাসে লিপ্ত। আবার মনে করা যেতে পারে, রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে শক্তিশালী হাতিয়ার এই ‘গুজব’। ইতিহাসের আলোকেই বলতে হয়, গুজব বরাবর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসাবে ব্যবহার করেছে একটি অসৎমহল ও অসৎ রাজনীতিবিদরা। জনরব বা মুখেমুখে রটে-যাওয়া কথা কিংবা ভিত্তিহীন প্রচার এবং মিথ্যা রটনা এমন রকম বহু প্রতিশব্দ ব্যবহার করেই যেন কুচক্রী মহল ফায়দা লুটছে। গুজবের গতিবেগ আলোর গতির চাইতেও দ্রুত। বর্তমান সময় তাকে কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠী মানে, জামাত বিএনপি তাদের নিজেদের সামাজিক অবস্থানকেই ভিন্নভাবে উপাস্থপনের জন্য গুজবের আশ্রয় নিচ্ছে। নিশ্চিত ভাবেই গুজবকে মোকাবেলা করতে হবে। কেন না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইগুলো ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। গুজব বিশ্লেষণ অনেক হলো এবার আসল কথাতে আসা যাকঃ

উদ্দেশ্য মহৎ হলে লক্ষে পৌঁছুতে সময় লাগতে পারে তবে অসম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ আবারো আক্রান্ত। দেশি-বিদেশি শত্রুরা সংঘবদ্ধ। তবে আন্তরিক ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। শত্রু মোকাবেলায় কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। গণ-মানুষের সরকারের পিছুহটার সুযোগ নেই, হেরে যাবার তো প্রশ্নই ওঠেনা। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে ডুবে গেছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। সত্য ও ন্যায়ের পথ পরিহার করে তারা এখন শুধুই গুজব ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। হেন ঘৃণ্য পন্থা নাই যা তারা করেনি। সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়েছে, ব্যর্থ হবে। ওদের এবারের ‘টার্গেট অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে কিলিং’ মিশন আর গুজব। যতদিন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি জামাত শিবির ও বিএনপির সমর্থনকারীদের প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, নিউজ পোর্টাল গুলো হতে শতভাগ সনাক্ত করে আইনের আওতায় না নিয়ে আসতে পারবে, ঠিক ততদিন সরকার ও সরকারী দলের বিরুদ্ধে গুজব রটানো বন্ধ করা সম্ভব নয়! এরা সূযোগের আশায় ঘাপটি মেরে ঢুকে আছেন আমার/আপনার সকলের মাঝেই। একটু সূযোগ পেলেই এরা যে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সৃষ্টি করতে পারেন।

তাই, গুজব রুখে দিতে এদেরকে সর্বপ্রথম সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, এবং এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। এদের বর্তমানে চেনা খুবই মুশকিল কেননা, এরা এখন সুকৌশলে ও পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে ছবি ও নাম ব্যবহার করে এবং এরা এখন (১৯৫২, ১৯৭১) সহ বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস গুলোতে ফুল ও শোকবার্তাও দিতে দেখা যায় অনেক বড়আকারে। আরো আশ্চর্য্যের বিষয় হলো, এরা স্থানীয় ও জাতীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রদানকারী নেতাদেরও ভালো তৈল মর্ধন করতে জানেন।আসলে এটি হচ্ছে তাদের লোক দেখানো। সু- কৌশলে ও পরিকল্পিতভাবে এরা নতুন হাইব্রিড নেতাদের সাথেও মিশে বা ভিড়ে গেছে এমনও দেখা যায়। জামাত শিবিরের পক্ষ্যে ও সরকারের উন্নয়ন কাজের বাঁধা দেওয়া এদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময় নাশকতার পরিকল্পনা প্রমান পুলিশ দিয়েছে, সেই প্রমাণ বিলুপ্ত করে এদের বাঁচানোর জন্য কিছু আওয়ামী লীগ নামের জানোয়ারেরা ও সরকারের কিছু এম পি মন্ত্রীদের আচরণে তাদের লোকজনের ব্যস্ততা দেখেই আমরা হতাশাগ্রস্থ। আরো দুঃখজনক হলো, আমাদের প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতারা তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করাতেও আমাদের ভাবনায় ফেলে দেন দিনের পর দিন। যাক অনেকে এখনও মনে করে এবং অনেকেই বিশ্বাসও করেন আওয়ামী লীগ সরকারের কোন রকম ক্ষমতা হারালে এই জামাত শিবির বিএনপির অভিযুক্ত -গুলো তাদের রক্ষা করবেন। পরিশেষেঃ নব্য হাইব্রিড ও গুজব সৃষ্টিকারীদের রুখে দিন তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অতি দ্রুত দেখতে পাবেন -ইনশাআল্লাহ।

-লেখকঃ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ, ইকবাল আহমেদ লিটন,ও অভিযোগ বার্তার প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক ।