
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখার অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহীনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। শাহীনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। প্রেরিত একটি গোপন প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোস্তফা কামাল শাহীন প্রথমে মিরপুর ডিভিশন অফিসে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তার পদবী পরিবর্তন করে অফিস সহকারী হন। এছাড়া, তিনি এবং তার সিন্ডিকেট ভূমি শাখায় দায়িত্বশীলদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি করেন এবং অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
অবৈধ সম্পত্তি
শাহীন এবং তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানার নামে বর্তমানে দুদকে মামলা চলমান রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরুড়া, কুমিল্লায় দুটি কোটিরও বেশি টাকার বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন, এবং মিরপুরে বিদেশী কাপড়ের একটি শো-রুম চালাচ্ছেন। এ ছাড়া, তিনি ও তার পরিবার বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে একাধিক বিদেশ সফর করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী হিসেবে নীতি লঙ্ঘন।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা
তদন্তে জানা যায়, শাহীন একটি বিশাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন, যেখানে ভূমি শাখার বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্ত। এর মধ্যে আছেন মোঃ আসান হাবিব, এম সেলিম শাহনেওয়াজ, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ নাহিদ আরমান সহ অন্যান্য সদস্যরা। এই সিন্ডিকেটটি মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমি ও সম্পত্তির অবৈধ লীজ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।
প্রস্তাবিত পদক্ষেপ
প্রতিবেদনটি সরকারী কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে যে, মোস্তফা কামাল শাহীন এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে, তবে অভিযোগ রয়েছে যে, তদন্তে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদন্তকে থামিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। মামলাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি খুবই ধীর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 









