
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের শিবরামপুর এলাকায় “সারাফা এগ্রিকালচারাল এন্ড ফেব্রিক্স” নামের একটি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অহরহ তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারি জাল। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ জাল উৎপাদন হয়ে যাচ্ছে বাজারে অবাধে, যদিও সময় সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হচ্ছে। সম্প্রতি ২ আগস্ট বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় আড়াইশ মিটার চায়না দোয়ারি জাল ধ্বংস করা হয়। দেশীয় মৎস্য সংরক্ষণ আইন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট” (মৎস্য অধিদপ্তর অংশ) এর আওতায় এই জাল ধ্বংস অভিযান পরিচালিত হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কেবল গরিব জেলে ও শখের বশত দেশি মাছ মেরে খাওয়ার উদ্দেশ্যে সাধারণ মৎস্য শিকারীরা। একাধিক ব্যক্তি জানান— আমরা কষ্টের টাকা দিয়ে জাল কিনি মাছ ধরার জন্য। অথচ মোবাইল কোর্ট এসে সেগুলো পুড়িয়ে দেয়। যারা জাল বানায় আর বাজারজাত করে, তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সব আইনের ভার যেন পড়ে গরিব জেলেদের উপরেই। তদন্তে জানা যায়, শিবরামপুরের সারাফা এগ্রিকালচারাল এন্ড ফেব্রিক্স নামক কারখানাটি এই জাল উৎপাদনের কেন্দ্র। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে দেখা গেছে, অভিযোগের সত্যতা। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও জানা যায়, মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল ছালাম ফরিদপুরের শিবরামপুর এলাকায় এই কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে এখান থেকে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ হচ্ছে চায়না দোয়ারি জাল। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সূক্ষ্ম ও ঘন ফাঁসের জাল ব্যবহার করলে দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর বিশেষ করে চায়না দোয়ারি এই জালে ছোট বড়ো সকল মাছ মারা পরে। এর ফলে নদী-খালে প্রাকৃতিক মাছের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দাবি তুলেছে, “গরিব জেলেদের ক্ষতি না করে প্রকৃত উৎপাদক ও কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে এ অবৈধ ব্যবসা থামানো সম্ভব নয়।”
সারাফা এগ্রিকালচারাল এন্ড ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরির ম্যানেজার উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানে কোন চায়না দোয়ারি জাল তৈরি করা হয় না। আপনাদের নিকট রং ইনফরমেশন আছে। প্রতিবেদকগণ ফ্যাক্টরির কার্যক্রম বা উৎপাদন ইউনিট নিউজের স্বার্থে ঘুরে দেখতে চাইলে তিনি দেখানোর কথা বলে দীর্ঘক্ষন বসিয়ে রেখে পরে তিনি অপারগতা স্বীকার করেন। এবং প্রতিবেদকদের প্রতিবেদন থামানোর জন্য বিভিন্ন মহলকে ফোন করে ডেকে এনে বাধা সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেদকগণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে আশঙ্কায় চলে আসেন। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান মোল্লাকে অবগত পূর্বক জানালে তিনি তা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান

Reporter Name 









