১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    রাজবাড়ী বিআরটিএর দরবেশ খ্যাত আকরামুজ্জামান এর আমলনামা!

    • Reporter Name
    • Update Time : ০৭:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
    • ২১২ Time View

    বিশেষ প্রতিনিধি : সর্ব প্রথমে বলতে হয় রাজবাড়ীর বিআরটিএ অফিস যেন আকরামুজ্জামানের পৈতৃক সম্পত্তি। ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে রাজবাড়ীর বিআরটিএ অফিসে বিনা বেতনে “সিল মেকানিক্যাল” পদে এক সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধি থেকে হয়ে উঠেন বিআরটিএর দরবেশ। তার ইশারাতেই চলতো বিআরটিএ অফিসের সিন্ডিকেট। আর এই সুযোগে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান বিআরটিএর দরবেশ খ্যাত এই দুর্নীতিগ্রস্ত আকরামুজ্জামান। তিনি রাজবাড়ী বিআরটিএ তে বিনা বেতনে কাজ করে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ব্যাংকে এফডিআর, জমি, গাড়ি, বাড়ি সবমিলিয়ে রয়েছে অবৈধ আয়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

    সরেজমিনে অনুসন্ধানে মেলে এর সত্যতা। স্থানীয়রা জানান, রাজবাড়ী ২ নং ব্যাড়াডাঙ্গা এনএসআই অফিসের সামনে ও সাবেক পৌর মেয়র এর বাড়ির পাশে রয়েছে সদ্য ক্রয়কৃত দোতলা বাড়ি সহ জমি। সজ্জনকান্দার সুজনের বোনদের নিকট থেকে গত ৮ মাস পূর্বে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে ৪ শতক জায়গাসহ দরবেশ আকরাম ক্রয় করেন নীল রঙের এই দ্বিতল বাড়ি। তার নিজ নামে রয়েছে ২২ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করা জাপানি টয়োটা পার্ল কালারের সালুন প্রাইভেট কার। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর – ঢাকা মেট্রো- গ ৪২- ০১২৭। মালিকের তথ্য যাচাই করলে দেখা যায় “ভিই ব্রিজ লি.” ৯ই অক্টোবর ২০১৮ সালে রেজিষ্ট্রেশন করেন। পরবর্তীতে শ্রীপুর পৌরসভার মোঃ সালহান ভুইয়ান এর ছেলে মোঃ আলমগীর ৬ই অক্টোবর ২০১৯ সালে ক্রয়ের মাধ্যমে ২য় মালিক হন। পরবর্তীতে উত্তর ইব্রাহীমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল এর মোঃ ফজলুর মেয়ে তাহমিনা আক্তার তুন্নি ২০২১ সালে ৩য় মালিক হিসেবে গাড়ি ক্রয় করেন। সর্বশেষ ২২ লক্ষ টাকা দিয়ে একই গাড়ি রাজবাড়ী সদরের মাটিপাড়া কাজী বাঁধা এলাকার মৃত বেলায়েতের ছেলে রাজবাড়ীর বিআরটিএ’র দরবেশ খ্যাত মোঃ আকরামুজ্জামান ৪র্থ মালিক হিসেবে গাড়ির মালিক হিসেবে রয়েছে। তিনি বাড়িতে ১ তলা বিশিষ্ট ভবন ও বাড়ির পাশে শরীফ বাড়ির ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জানান। তার আরও রয়েছে মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর সহ অঢেল সম্পদ।
    তিনি ট্যাক্স জোন ৩ এর সার্কেল ৫৬ তে আয়কর খুলেছেন। কিন্তু, এযাবৎ কাল কোন আয়কর প্রদান করে নাই। যার টিন নম্বর হচ্ছে -৪৯২৪৩৭৭৬৪৫৯০।

    এই দরবেশের সাঙ্গ পাঙ্গ সহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যর তথ্য পেয়ে গত ৭ই মে -২০২৫ তারিখ বুধবার রাজবাড়ী বিআরটিএ অফিসে ফরিদপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্ব দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দরবেশ আকরামুজ্জামানসহ দালাল চক্রের আরও ৩ সদস্য কে ৭২ হাজার ৪২০ টাকা সহকারে আটক করেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ পন্থায় ও অনিয়ম দুর্নীতি করে অর্জিত বিআরটিএর দরবেশ আকরামুজ্জামানের এই সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কী? না পার পেয়ে যাবেন এই দুর্নীতিবাজ।

    বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী না হয়েও বিআরটিএ অফিসে দালালী কাজ করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাতয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে আকরামুজ্জামান বলেন, আপনার যা করণীয় করেন! আর, আমার যদি কিছু চায়ে নেওয়ার থাকে চায়ে নেবোনে। তিনি কোন পদে চাকরি করেন জানতে চাইলে বলেন, আমার পদ পদবী সম্বন্ধে জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

    ×
    30 January 2026 11:28


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    Jakir Patwary

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    রাজবাড়ী বিআরটিএর দরবেশ খ্যাত আকরামুজ্জামান এর আমলনামা!

    Update Time : ০৭:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

    বিশেষ প্রতিনিধি : সর্ব প্রথমে বলতে হয় রাজবাড়ীর বিআরটিএ অফিস যেন আকরামুজ্জামানের পৈতৃক সম্পত্তি। ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে রাজবাড়ীর বিআরটিএ অফিসে বিনা বেতনে “সিল মেকানিক্যাল” পদে এক সময় মালিক সমিতির প্রতিনিধি থেকে হয়ে উঠেন বিআরটিএর দরবেশ। তার ইশারাতেই চলতো বিআরটিএ অফিসের সিন্ডিকেট। আর এই সুযোগে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান বিআরটিএর দরবেশ খ্যাত এই দুর্নীতিগ্রস্ত আকরামুজ্জামান। তিনি রাজবাড়ী বিআরটিএ তে বিনা বেতনে কাজ করে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ব্যাংকে এফডিআর, জমি, গাড়ি, বাড়ি সবমিলিয়ে রয়েছে অবৈধ আয়ে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

    সরেজমিনে অনুসন্ধানে মেলে এর সত্যতা। স্থানীয়রা জানান, রাজবাড়ী ২ নং ব্যাড়াডাঙ্গা এনএসআই অফিসের সামনে ও সাবেক পৌর মেয়র এর বাড়ির পাশে রয়েছে সদ্য ক্রয়কৃত দোতলা বাড়ি সহ জমি। সজ্জনকান্দার সুজনের বোনদের নিকট থেকে গত ৮ মাস পূর্বে ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে ৪ শতক জায়গাসহ দরবেশ আকরাম ক্রয় করেন নীল রঙের এই দ্বিতল বাড়ি। তার নিজ নামে রয়েছে ২২ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করা জাপানি টয়োটা পার্ল কালারের সালুন প্রাইভেট কার। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর – ঢাকা মেট্রো- গ ৪২- ০১২৭। মালিকের তথ্য যাচাই করলে দেখা যায় “ভিই ব্রিজ লি.” ৯ই অক্টোবর ২০১৮ সালে রেজিষ্ট্রেশন করেন। পরবর্তীতে শ্রীপুর পৌরসভার মোঃ সালহান ভুইয়ান এর ছেলে মোঃ আলমগীর ৬ই অক্টোবর ২০১৯ সালে ক্রয়ের মাধ্যমে ২য় মালিক হন। পরবর্তীতে উত্তর ইব্রাহীমপুর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, কাফরুল এর মোঃ ফজলুর মেয়ে তাহমিনা আক্তার তুন্নি ২০২১ সালে ৩য় মালিক হিসেবে গাড়ি ক্রয় করেন। সর্বশেষ ২২ লক্ষ টাকা দিয়ে একই গাড়ি রাজবাড়ী সদরের মাটিপাড়া কাজী বাঁধা এলাকার মৃত বেলায়েতের ছেলে রাজবাড়ীর বিআরটিএ’র দরবেশ খ্যাত মোঃ আকরামুজ্জামান ৪র্থ মালিক হিসেবে গাড়ির মালিক হিসেবে রয়েছে। তিনি বাড়িতে ১ তলা বিশিষ্ট ভবন ও বাড়ির পাশে শরীফ বাড়ির ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জানান। তার আরও রয়েছে মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর সহ অঢেল সম্পদ।
    তিনি ট্যাক্স জোন ৩ এর সার্কেল ৫৬ তে আয়কর খুলেছেন। কিন্তু, এযাবৎ কাল কোন আয়কর প্রদান করে নাই। যার টিন নম্বর হচ্ছে -৪৯২৪৩৭৭৬৪৫৯০।

    এই দরবেশের সাঙ্গ পাঙ্গ সহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বানিজ্যর তথ্য পেয়ে গত ৭ই মে -২০২৫ তারিখ বুধবার রাজবাড়ী বিআরটিএ অফিসে ফরিদপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্ব দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দরবেশ আকরামুজ্জামানসহ দালাল চক্রের আরও ৩ সদস্য কে ৭২ হাজার ৪২০ টাকা সহকারে আটক করেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ পন্থায় ও অনিয়ম দুর্নীতি করে অর্জিত বিআরটিএর দরবেশ আকরামুজ্জামানের এই সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কী? না পার পেয়ে যাবেন এই দুর্নীতিবাজ।

    বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী না হয়েও বিআরটিএ অফিসে দালালী কাজ করে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাতয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে আকরামুজ্জামান বলেন, আপনার যা করণীয় করেন! আর, আমার যদি কিছু চায়ে নেওয়ার থাকে চায়ে নেবোনে। তিনি কোন পদে চাকরি করেন জানতে চাইলে বলেন, আমার পদ পদবী সম্বন্ধে জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

    ×
    30 January 2026 11:28