
আজ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রেজিস্ট্রারের কাছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘গণহত্যা ও হত্যাযজ্ঞ’ চালানোর অভিযোগে এই চার্জ দাখিল করা হয়েছে। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে: তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আজ যে সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়েছে তারা হলেন: ১. ওবায়দুল কাদের (সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) ২. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) ৩. মোহাম্মদ এ আরাফাত (সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী) ৪. শেখ ফজলে শামস পরশ (যুবলীগের চেয়ারম্যান) ৫. মাইনুল হোসেন খান নিখিল (যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক) ৬. সাদ্দাম হোসেন (নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি) ৭. শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান (নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক) মূল পয়েন্টগুলো: অভিযোগের ধরন: জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সারা দেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা: প্রসিকিউশন জানিয়েছে এই সাতজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগ আমলে নিলে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আসামিদের অবস্থান: সংশ্লিষ্ট আসামিদের অধিকাংশই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য যে, এর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চেয়ে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) ওবায়দুল কাদের এবং মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. অভিযোগের প্রেক্ষাপট ও মূল ভিত্তি : প্রসিকিউশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়েছিল।উসকানি ও নির্দেশনা: ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তার প্রকাশ্য উসকানি ও নির্দেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর মরণঘাতী আক্রমণ এবং নির্যাতন চালিয়েছিল।তথ্য কারচুপি: সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালীন ভুল তথ্য প্রচার এবং ঘটনার সত্যতা গোপন করে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২. আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রক্রিয়া : প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রেজিস্ট্রারের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্ত সম্পন্ন: গত ৮ ডিসেম্বর এই সাত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। তদন্তে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সাথে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে প্রসিকিউশন। পরবর্তী পদক্ষেপ: ট্রাইব্যুনাল যদি এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) আমলে নেয়, তবে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে এবং এরপর বিচারিক কার্যক্রম (Trial) শুরু হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলা : আজকের এই অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে: শেখ হাসিনার বিচার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১২ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। রেড নোটিশ: পলাতক আসামিদের (বিশেষ করে ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।
৪. অভিযুক্তদের বর্তমান অবস্থা : তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, এই ৭ নেতার প্রায় সকলেই বর্তমানে পলাতক। তারা দেশের ভেতরে লুকিয়ে আছেন নাকি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, সে বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।
Reporter Name 









