১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ১৯, আহত ৩০০’র অধিক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৫৭ Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেপালে ‘জেন‑জি প্রজন্ম’ প্রতিবাদ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৩০০’র অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সংসদ ভবন আশপাশে বিক্ষোভকারীরা বাধা উপেক্ষা করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালায়। এক কর্মকর্তা জানান, কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ চত্বরে প্রবেশ করার পর একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেন এবং দাঙ্গা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুঁড়ে। এক বিক্ষোভকারী ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে। আমার পাশ দিয়ে একটি গুলি চলে যায় — তা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের হাতে লাগে। পুলিশ কর্মকর্তা শেখর খানাল রয়টার্সকে বলেন, ‘সংঘর্ষে ২৮ জন পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক আহত হয়েছে; আহতদের মধ্যে অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইতাহারিতেও বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে; সেখানে দু’জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উত্কণ্ঠাকর পরিস্থিতির কারণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকের ডাক দেন। সকাল থেকে হাজার হাজার স্কুল এবং কলেজ শিক্ষার্থী ইউনিফর্মে রাস্তায় নেমে ‘দুর্নীতি বন্ধ কর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়’, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দাও’ এবং ‘যুব সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে’—এমন প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেন।

‘জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিবাদ তরুণদের ক্ষোভের প্রতিফলন; যা সরকারের দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচন ও যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা সমাধানের ব্যর্থতার কারণে উত্থিত হয়েছে।

×
15 May 2026 00:59


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ১৯, আহত ৩০০’র অধিক

Update Time : ০৪:০০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেপালে ‘জেন‑জি প্রজন্ম’ প্রতিবাদ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৩০০’র অধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সংসদ ভবন আশপাশে বিক্ষোভকারীরা বাধা উপেক্ষা করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালায়। এক কর্মকর্তা জানান, কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ চত্বরে প্রবেশ করার পর একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেন এবং দাঙ্গা পুলিশের দিকে ইট-পাথর ছুঁড়ে। এক বিক্ষোভকারী ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে। আমার পাশ দিয়ে একটি গুলি চলে যায় — তা আমার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজনের হাতে লাগে। পুলিশ কর্মকর্তা শেখর খানাল রয়টার্সকে বলেন, ‘সংঘর্ষে ২৮ জন পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক আহত হয়েছে; আহতদের মধ্যে অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইতাহারিতেও বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে; সেখানে দু’জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

উত্কণ্ঠাকর পরিস্থিতির কারণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এক জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠকের ডাক দেন। সকাল থেকে হাজার হাজার স্কুল এবং কলেজ শিক্ষার্থী ইউনিফর্মে রাস্তায় নেমে ‘দুর্নীতি বন্ধ কর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়’, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দাও’ এবং ‘যুব সমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে’—এমন প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেন।

‘জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিবাদ তরুণদের ক্ষোভের প্রতিফলন; যা সরকারের দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচন ও যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা সমাধানের ব্যর্থতার কারণে উত্থিত হয়েছে।

×
15 May 2026 00:59