
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসন থেকে আমজনতার দলের সদস্য হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ওবায়দুল হক। মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয় জানতে চাইলে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমজনতার দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি।’দল পরিবর্তন করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল হক বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আছি ঠিক আছে, তবে আপাতত আমি আমজনতার দলের সদস্য। এই দলের হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হব। আমজনতার দল ফেনী জেলা শাখার আহ্বায়ক আশিষ দত্ত বলেন, ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে দলীয়ভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ফরহাদ চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনে ওবায়দুল হক প্রার্থী হচ্ছেন। ওবায়দুল হক এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যখন নিজের দল ছেড়ে বা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘আমজনতার দল’ (বা এই ধরনের অন্য কোনো দল) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু আলোচনার জন্ম দেয়।
সাধারণত এই ধরনের ঘটনাগুলো নিচের কয়েকটি কারণে ঘটে থাকে:
-
দলের মনোনয়ন না পাওয়া: অনেক সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্ত্বেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিকল্প পথ হিসেবে অন্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন।
-
কৌশলগত অবস্থান: অনেক সময় মূল দলের উচ্চপর্যায়ের মৌন সম্মতিতে “ডামি প্রার্থী” বা নির্বাচনের আমেজ বজায় রাখতে ছোট দল থেকে মনোনয়ন নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
-
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা বা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অনেকে ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বেছে নেন।
এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
১. শৃঙ্খলাভঙ্গ: আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য দল থেকে মনোনয়ন নেওয়া বা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াকে সাধারণত ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে দল থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকি থাকে। ২. ভোটের সমীকরণ: ওই নেতা যদি এলাকায় জনপ্রিয় হন, তবে তিনি আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীর ভোট ব্যাংক ভাগ করে দিতে পারেন। ৩. ছোট দলের পরিচিতি: বড় দলের নেতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ‘আমজনতার দল’-এর মতো ছোট দলগুলো রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসার সুযোগ পায়।
Reporter Name 









