০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের পর নেইমার বললেন, ‘আমি লজ্জিত’, কোচ বরখাস্ত

    • Reporter Name
    • Update Time : ০১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫
    • ১৭৬ Time View

    ম্যাচ শেষে আবেগ সামাল দিতে পারলেন না নেইমার। মাঠে বসেই কাঁদতে শুরু করলেন। কয়েকজন এগিয়ে এসে চেষ্টা করলেন সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু একটু আগে যিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের সাক্ষী হলেন, তিনি কি খুব সহজে দুঃখ ভুলতে পারেন! নেইমারেরও নিশ্চিতভাবে এই ধাক্কা সামলাতে সময় লাগবে। আজ সকালে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে নেইমারের সান্তোস। ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি আ’র এই ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি নেইমারের দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য মাত্র এক গোল খেয়েছিল সান্তোস। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভাস্কো দা গামা একে একে পাঁচবার বল জড়ায় সান্তোসের জালে। এই ম্যাচের আগে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার ছিল ৪–০ গোলের। ২০১১ সালে সান্তোসে খেলার সময় বার্সেলোনার বিপক্ষে (ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ) এবং ২০১৭ সালে বার্সেলোনায় খেলার সময় পিএসজির বিপক্ষে (চ্যাম্পিয়নস লিগে) এমন হারের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু আজ সেই দুই হারও পেছনে পড়ে গেল। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত হলেও সে ম্যাচে চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। এভাবেই হতাশায় মাঠে বসে পড়েন নেইমার  এভাবেই হতাশায় মাঠে বসে পড়েন নেইমাররয়টার্স

    এই ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই সবার চোখ ছিল নেইমার ও তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ফিলিপে কুতিনিওর দিকে। নেইমার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন সান্তোসের আর কুতিনিও ভাস্কো দা গামার। মাঠের লড়াইয়ে কুতিনিওর দলের সামনে নেইমাররা যে দাঁড়াতেই পারেননি, সেটি স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও এই ম্যাচে জয় হয়েছে কুতিনিওরই। ভাস্কো দা গামার ৬ গোলের দুটি করেছেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। গোল দুটি হয় ম্যাচের ৫৪ ও ৬২ মিনিটে। দুর্দান্ত এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকেও বেরিয়ে এসেছে ভাস্কো দা গামা। ১৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বর অবস্থানে আছে তারা। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সান্তোস আছে ১৫ নম্বরে। 

    ম্যাচ শেষে নেইমার বলেছেন, ‘আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে আমি সম্পূর্ণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদের পুরোপুরি অধিকার আছে, অবশ্যই সহিংসতা পরিহার করে। তারা যদি গালি দেয় বা অপমান করে, সেটারও অধিকার তাদের আছে।’ নেইমার এ সময় আরও যোগ করে বলেছেন, ‘এটা চরম লজ্জার অনুভূতি। জীবনে কখনো এমনটা হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এবার হলো। কান্না এসেছিল রাগ থেকে, যা ঘটেছে সবকিছুর জন্য। দুর্ভাগ্যবশত আমি সবদিক দিয়ে সাহায্য করতে পারি না। যা–ই হোক, পুরো ব্যাপারটাই ছিল একেবারে বাজে, এটাই বাস্তবতা।’ সান্তোসের এত বড় হারের কিছুক্ষণ পরই প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়ে হাভিয়েরকে ছাঁটাইয়ের কথা নিশ্চিত করেছেন সান্তোসই।

    ×
    22 January 2026 20:29


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের পর নেইমার বললেন, ‘আমি লজ্জিত’, কোচ বরখাস্ত

    Update Time : ০১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

    ম্যাচ শেষে আবেগ সামাল দিতে পারলেন না নেইমার। মাঠে বসেই কাঁদতে শুরু করলেন। কয়েকজন এগিয়ে এসে চেষ্টা করলেন সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু একটু আগে যিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে হারের সাক্ষী হলেন, তিনি কি খুব সহজে দুঃখ ভুলতে পারেন! নেইমারেরও নিশ্চিতভাবে এই ধাক্কা সামলাতে সময় লাগবে। আজ সকালে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ৬–০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে নেইমারের সান্তোস। ব্রাজিলিয়ান লিগ সিরি আ’র এই ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি নেইমারের দল। ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য মাত্র এক গোল খেয়েছিল সান্তোস। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভাস্কো দা গামা একে একে পাঁচবার বল জড়ায় সান্তোসের জালে। এই ম্যাচের আগে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হার ছিল ৪–০ গোলের। ২০১১ সালে সান্তোসে খেলার সময় বার্সেলোনার বিপক্ষে (ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ) এবং ২০১৭ সালে বার্সেলোনায় খেলার সময় পিএসজির বিপক্ষে (চ্যাম্পিয়নস লিগে) এমন হারের স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু আজ সেই দুই হারও পেছনে পড়ে গেল। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত হলেও সে ম্যাচে চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। এভাবেই হতাশায় মাঠে বসে পড়েন নেইমার  এভাবেই হতাশায় মাঠে বসে পড়েন নেইমাররয়টার্স

    এই ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই সবার চোখ ছিল নেইমার ও তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ফিলিপে কুতিনিওর দিকে। নেইমার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন সান্তোসের আর কুতিনিও ভাস্কো দা গামার। মাঠের লড়াইয়ে কুতিনিওর দলের সামনে নেইমাররা যে দাঁড়াতেই পারেননি, সেটি স্কোরলাইনই বলে দিচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও এই ম্যাচে জয় হয়েছে কুতিনিওরই। ভাস্কো দা গামার ৬ গোলের দুটি করেছেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। গোল দুটি হয় ম্যাচের ৫৪ ও ৬২ মিনিটে। দুর্দান্ত এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকেও বেরিয়ে এসেছে ভাস্কো দা গামা। ১৮ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বর অবস্থানে আছে তারা। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে সান্তোস আছে ১৫ নম্বরে। 

    ম্যাচ শেষে নেইমার বলেছেন, ‘আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে আমি সম্পূর্ণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদের পুরোপুরি অধিকার আছে, অবশ্যই সহিংসতা পরিহার করে। তারা যদি গালি দেয় বা অপমান করে, সেটারও অধিকার তাদের আছে।’ নেইমার এ সময় আরও যোগ করে বলেছেন, ‘এটা চরম লজ্জার অনুভূতি। জীবনে কখনো এমনটা হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত এবার হলো। কান্না এসেছিল রাগ থেকে, যা ঘটেছে সবকিছুর জন্য। দুর্ভাগ্যবশত আমি সবদিক দিয়ে সাহায্য করতে পারি না। যা–ই হোক, পুরো ব্যাপারটাই ছিল একেবারে বাজে, এটাই বাস্তবতা।’ সান্তোসের এত বড় হারের কিছুক্ষণ পরই প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়ে হাভিয়েরকে ছাঁটাইয়ের কথা নিশ্চিত করেছেন সান্তোসই।

    ×
    22 January 2026 20:29