০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    কলকাতায় ‘পার্টি অফিস’ খুলেছে আওয়ামী লীগ, যেভাবে চলছে কার্যক্রম

    • Reporter Name
    • Update Time : ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
    • ১১০ Time View

    ওবায়েদুল কাদের বলেন, সরকারের ব্যর্থতার জন্য বহু মানুষ এখন বলছেন, ‘শেখ হাসিনার সময়েই ভাল ছিলাম’

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। গত ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় রয়েছে শত শত বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, রাত-দিন লাখ লাখ মানুষের ভিড় জমায় সেখানে। ব্যস্ততম এই এলাকার একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে সম্প্রতি এমন কয়েকজনের আনাগোনা বেড়েছে, যাদের কয়েক মাস আগেও সেখানে দেখা যেত না।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ওই এলাকায় যাতায়ত করা অনেকেই এক বছর আগেও বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ এবং মধ্যম স্তরের নেতা। তারা যে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে যাতায়াত করছেন কয়েক মাস ধরে, সেখানেই ‘‘দলীয় দপ্তর’’ খুলেছে আওয়ামী লীগ।

    সেই ‘‘পার্টি অফিসের’’ বর্ণনায় বিবিসি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই বাণিজ্যিক ভবনটির আট তলার একটি কক্ষে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। তবে বাইরে থেকে কেউ ঢুঁ মেরেও বুঝতে পারবে না যে এটি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সাইন বোর্ড, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি- কিছুই সেখানে নেই।

    এ বিষয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু বা নেত্রীর কোনো ছবি, সাইনবোর্ড কোনো কিছুই আমরা রাখিনি খুবই সচেতনভাবে। আমরা চাইনি যে এই পরিচিতি প্রকাশ পাক। এমনকি একটা দলীয় দপ্তরে যেসব কাগজপত্র থাকে, সেসবও এখানে রাখা হয় না। নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ, বৈঠকের জন্য একটা ঘর দরকার ছিল, এটা পাওয়া গেছে। এটাকে আমরা পার্টি অফিসই বলি, কিন্তু আসলে এটি একটি বাণিজ্যিক অফিস। আগে যে সংস্থা কাজ করত এখানে, তাদেরই ছেড়ে যাওয়া চেয়ার, টেবিল এসবই আমরা ব্যবহার করি। ৩০-৩৫ জনের বৈঠক এই দপ্তরেই হয়ে যায়, কিন্তু একটু চাপাচাপি করে বসতে হয়। ছোটখাটো বৈঠক বিভিন্ন নেতাদের বাসাবাড়িতে এখনও হয়। তবে বড় বৈঠকগুলো, যেখানে শতাধিক নেতা-কর্মী হাজির হওয়ার কথা, সেরকম বৈঠকের জন্য কোনো ব্যাঙ্কয়েট হল বা কোনো রেস্টুরেন্টের একটি অংশ ভাড়া নেওয়া হয়।”

    ৫ আগস্ট পতনের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে কলকাতায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও সেখানে থাকছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভার্চুয়ালি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন তারা। গত ৩১ জুলাই কয়েকজনের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রয়েছে আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ। সেখানেই নিয়মিত লাইভ করে থাকে দলটি। যেসব নেতা-কর্মী এখনও বাংলাদেশে রয়ে গেছে, তাদের ও ভার্চুয়ালি নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বিবিসি।

    যেসব নেতা-কর্মীরা ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেনি, তারা দেশে মার খাচ্ছেন, গ্রেপ্তার হচ্ছেন- এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই প্রশ্ন ওঠা যে খুব অযৌক্তিক তা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ১৯৭১ এ যদি তখনকার নেতৃত্ব ভারতে চলে এসে প্রবাসী সরকার গঠন না করতেন, তাহলে কী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হত? আমি ৭১-এর সঙ্গে তুলনা করছি না বর্তমান সময়ের, কিন্তু এরকম উদাহরণ আমাদের দেশেও রয়েছে, অন্যান্য দেশেও আছে যে বিদেশ থেকে দল পরিচালনা করে, শক্তি সঞ্চয় করে দেশে ফিরে ক্ষমতা দখল করেছেন নেতারা। পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফ বা বেনজির ভুট্টো বলুন বা আমাদের দেশের তারেক রহমান। সবাই তো বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করেছেন বা এখনও করছেন।”

    দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন প্রচার করেছিল এই সরকার, তাতে তারা গত এক বছরে সব দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনীতি ফেইল করেছে, বিচারব্যবস্থা প্রহসনে দাঁড়িয়েছে। আর সবক্ষেত্রেই তাদের ব্যর্থতার জন্য তারা শেখ হাসিনা আর ভারতের ওপরে দায় চাপাতে ব্যস্ত। একটা যেন ইন্ডিয়াফোবিয়া, হাসিনাফোবিয়া হয়ে গেছে তাদের। এক বছর পরে তাদের নিয়ে সেই উন্মাদনা কিন্তু আর নেই। তাদের মুখের কথায় মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারছে না, বিভ্রান্ত হচ্ছে না। সবাই বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়ন করছে সরকারের। তাদের এই ব্যর্থতার জন্য বহু মানুষ বলছেন শেখ হাসিনার সময়েই ভাল ছিলাম।”

    নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হুসাইনও ভারতে অবস্থান করছেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘‘গত এক বছর ধরে ক্যাম্পাসটা খুব মিস করি। দেশে থাকলেও যে গত এক বছরে ক্যাম্পাসে যেতে পারতাম তা নয়। হাজার হাজার ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থক তারা তো দেশে থেকেও ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না এক বছর ধরে। তাদের ক্লাস করতে দেওয়া হয় না, তারা পরীক্ষা দিতে পারেন না, পাশ করলেও সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। এদের সবার শিক্ষাক্রমটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এটা যে শুধু ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে করা হচ্ছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ করেন বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এমন পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও এই একই ঘটনা হচ্ছে।”

    ভারতে থেকে কীভাবে নেতা-কর্মীরা তাদের খরচ চালাচ্ছেন, এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘‘সাংগঠনিকভাবে আগস্টের পরে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, সেই অন্ধকার অতিক্রম করা কঠিন কাজ। যেসব নেতা-কর্মী দেশে বা বিদেশে আছেন, তারাই এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসছেন, অর্থ সাহায্য করছেন। কর্মীরা এখানে কষ্ট করেই আছেন, তবে মনোবলই আমাদের সম্বল।”

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ভারতীয় গোয়েন্দারা এই দপ্তরের ব্যাপারে জানেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্তরের অনুমোদন ছাড়া আওয়ামী লীগ এভাবে দলীয় দপ্তর খুলে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারতো না।

    ×
    22 January 2026 19:14


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    কলকাতায় ‘পার্টি অফিস’ খুলেছে আওয়ামী লীগ, যেভাবে চলছে কার্যক্রম

    Update Time : ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

    ওবায়েদুল কাদের বলেন, সরকারের ব্যর্থতার জন্য বহু মানুষ এখন বলছেন, ‘শেখ হাসিনার সময়েই ভাল ছিলাম’

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। গত ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় রয়েছে শত শত বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, রাত-দিন লাখ লাখ মানুষের ভিড় জমায় সেখানে। ব্যস্ততম এই এলাকার একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে সম্প্রতি এমন কয়েকজনের আনাগোনা বেড়েছে, যাদের কয়েক মাস আগেও সেখানে দেখা যেত না।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ওই এলাকায় যাতায়ত করা অনেকেই এক বছর আগেও বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ এবং মধ্যম স্তরের নেতা। তারা যে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে যাতায়াত করছেন কয়েক মাস ধরে, সেখানেই ‘‘দলীয় দপ্তর’’ খুলেছে আওয়ামী লীগ।

    সেই ‘‘পার্টি অফিসের’’ বর্ণনায় বিবিসি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই বাণিজ্যিক ভবনটির আট তলার একটি কক্ষে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। তবে বাইরে থেকে কেউ ঢুঁ মেরেও বুঝতে পারবে না যে এটি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সাইন বোর্ড, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি- কিছুই সেখানে নেই।

    এ বিষয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘‘বঙ্গবন্ধু বা নেত্রীর কোনো ছবি, সাইনবোর্ড কোনো কিছুই আমরা রাখিনি খুবই সচেতনভাবে। আমরা চাইনি যে এই পরিচিতি প্রকাশ পাক। এমনকি একটা দলীয় দপ্তরে যেসব কাগজপত্র থাকে, সেসবও এখানে রাখা হয় না। নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ, বৈঠকের জন্য একটা ঘর দরকার ছিল, এটা পাওয়া গেছে। এটাকে আমরা পার্টি অফিসই বলি, কিন্তু আসলে এটি একটি বাণিজ্যিক অফিস। আগে যে সংস্থা কাজ করত এখানে, তাদেরই ছেড়ে যাওয়া চেয়ার, টেবিল এসবই আমরা ব্যবহার করি। ৩০-৩৫ জনের বৈঠক এই দপ্তরেই হয়ে যায়, কিন্তু একটু চাপাচাপি করে বসতে হয়। ছোটখাটো বৈঠক বিভিন্ন নেতাদের বাসাবাড়িতে এখনও হয়। তবে বড় বৈঠকগুলো, যেখানে শতাধিক নেতা-কর্মী হাজির হওয়ার কথা, সেরকম বৈঠকের জন্য কোনো ব্যাঙ্কয়েট হল বা কোনো রেস্টুরেন্টের একটি অংশ ভাড়া নেওয়া হয়।”

    ৫ আগস্ট পতনের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে কলকাতায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও সেখানে থাকছেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভার্চুয়ালি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন তারা। গত ৩১ জুলাই কয়েকজনের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রয়েছে আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম গ্রুপ। সেখানেই নিয়মিত লাইভ করে থাকে দলটি। যেসব নেতা-কর্মী এখনও বাংলাদেশে রয়ে গেছে, তাদের ও ভার্চুয়ালি নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বিবিসি।

    যেসব নেতা-কর্মীরা ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেনি, তারা দেশে মার খাচ্ছেন, গ্রেপ্তার হচ্ছেন- এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই প্রশ্ন ওঠা যে খুব অযৌক্তিক তা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ১৯৭১ এ যদি তখনকার নেতৃত্ব ভারতে চলে এসে প্রবাসী সরকার গঠন না করতেন, তাহলে কী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব হত? আমি ৭১-এর সঙ্গে তুলনা করছি না বর্তমান সময়ের, কিন্তু এরকম উদাহরণ আমাদের দেশেও রয়েছে, অন্যান্য দেশেও আছে যে বিদেশ থেকে দল পরিচালনা করে, শক্তি সঞ্চয় করে দেশে ফিরে ক্ষমতা দখল করেছেন নেতারা। পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফ বা বেনজির ভুট্টো বলুন বা আমাদের দেশের তারেক রহমান। সবাই তো বিদেশ থেকেই দল পরিচালনা করেছেন বা এখনও করছেন।”

    দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন প্রচার করেছিল এই সরকার, তাতে তারা গত এক বছরে সব দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনীতি ফেইল করেছে, বিচারব্যবস্থা প্রহসনে দাঁড়িয়েছে। আর সবক্ষেত্রেই তাদের ব্যর্থতার জন্য তারা শেখ হাসিনা আর ভারতের ওপরে দায় চাপাতে ব্যস্ত। একটা যেন ইন্ডিয়াফোবিয়া, হাসিনাফোবিয়া হয়ে গেছে তাদের। এক বছর পরে তাদের নিয়ে সেই উন্মাদনা কিন্তু আর নেই। তাদের মুখের কথায় মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারছে না, বিভ্রান্ত হচ্ছে না। সবাই বাস্তবতার নিরিখে মূল্যায়ন করছে সরকারের। তাদের এই ব্যর্থতার জন্য বহু মানুষ বলছেন শেখ হাসিনার সময়েই ভাল ছিলাম।”

    নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হুসাইনও ভারতে অবস্থান করছেন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘‘গত এক বছর ধরে ক্যাম্পাসটা খুব মিস করি। দেশে থাকলেও যে গত এক বছরে ক্যাম্পাসে যেতে পারতাম তা নয়। হাজার হাজার ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থক তারা তো দেশে থেকেও ক্যাম্পাসে যেতে পারছেন না এক বছর ধরে। তাদের ক্লাস করতে দেওয়া হয় না, তারা পরীক্ষা দিতে পারেন না, পাশ করলেও সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। এদের সবার শিক্ষাক্রমটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এটা যে শুধু ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে করা হচ্ছে, তা নয়। আওয়ামী লীগ করেন বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এমন পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও এই একই ঘটনা হচ্ছে।”

    ভারতে থেকে কীভাবে নেতা-কর্মীরা তাদের খরচ চালাচ্ছেন, এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘‘সাংগঠনিকভাবে আগস্টের পরে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, সেই অন্ধকার অতিক্রম করা কঠিন কাজ। যেসব নেতা-কর্মী দেশে বা বিদেশে আছেন, তারাই এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসছেন, অর্থ সাহায্য করছেন। কর্মীরা এখানে কষ্ট করেই আছেন, তবে মনোবলই আমাদের সম্বল।”

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ভারতীয় গোয়েন্দারা এই দপ্তরের ব্যাপারে জানেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ স্তরের অনুমোদন ছাড়া আওয়ামী লীগ এভাবে দলীয় দপ্তর খুলে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারতো না।

    ×
    22 January 2026 19:14