০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি, অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন: মির্জা ফখরুল

    • Reporter Name
    • Update Time : ০২:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
    • ৪৫ Time View

    বিএনপির নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অযথা কেন টানাটানি—প্রশ্ন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা তো তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি। তোমাদেরকে তোমাদের মার্কা দেবে নির্বাচন কমিশন, সেটা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৯৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি সংসদ। শাপলাকে নির্বাচনী প্রতীক চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নির্বাচন কমিশন দলটিকে এ প্রতীক দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এক বৈঠকের পর তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘হয় শাপলা প্রতীক দিতে হবে নয়তো ধান, সোনালি আঁশ বাদ দিতে হবে’— এই শর্ত নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে এনসিপি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শাপলা প্রতীক ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না।’ শুক্রবার মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল, তারা ধমক দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে যে অমুক মার্কা না দিলে আমরা নির্বাচনে যাব না বা ওমুকের মার্কা থাকতে পারবে না। আমরা এ কথা বলি নাই যে তোমাদেরকে মার্কা দেওয়া যাবে না। তাহলে অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন।’

    ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য এবং এটিকে থামিয়ে রাখা যায় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গ্রামেগঞ্জে যেখানে যাবেন, সেখানে একটাই স্লোগান শুধু ধান লাগাও, ধান লাগাও—এটাই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। ওই জন্য ধানের শীষকে রুখে দিতে হবে, আটকে দিতে হবে। কারণ, ধানের শীষ জিতে গেলে ওই যে বাংলাদেশের শত্রুরা আছে, সে শত্রুরা তাদের সব ষড়যন্ত্র থেকে পরাজিত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।’ শেখ হাসিনাকে দানব উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মনস্টার (দানব) শেখ হাসিনা এমনি এমনি দিল্লি পলাইয়া যায়নি, যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা সে ভিত্তি তৈরি করেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করে সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে আমরা সেই ভিত্তি অর্জন করেছি।’ কয়েক দিন লাফালাফি করলে গণতন্ত্র হয় না— এমন মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র গড়তে হলে অনেক পরিশ্রম দরকার, ত্যাগ দরকার, জনগণের কাছে যাওয়া দরকার। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য মানুষের কাছে যাওয়া পার্টি।’ আমলাতন্ত্রকে একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেখছি আমলাতন্ত্রকে একটি দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র, সরকার থাকতে হবে নির্বাচনের সময়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো দলের কাছে যেন মাথা নত না করে।’

    সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে শহীদ জেহাদের লাশ রেখে আমরা শপথ করেছিলাম স্বৈরাচার পতনের। পরের দিন হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে আবার শপথ নিই। শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারের পতন করতে সফল হয়।’

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনসহ প্রমুখ।

    ×
    1 December 2025 03:20


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    জনপ্রিয় পোস্ট

    ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেব: জামায়াতের প্রার্থী

    তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি, অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন: মির্জা ফখরুল

    Update Time : ০২:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

    বিএনপির নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অযথা কেন টানাটানি—প্রশ্ন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা তো তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি। তোমাদেরকে তোমাদের মার্কা দেবে নির্বাচন কমিশন, সেটা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৯৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শহীদ জেহাদ স্মৃতি সংসদ। শাপলাকে নির্বাচনী প্রতীক চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নির্বাচন কমিশন দলটিকে এ প্রতীক দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এক বৈঠকের পর তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘হয় শাপলা প্রতীক দিতে হবে নয়তো ধান, সোনালি আঁশ বাদ দিতে হবে’— এই শর্ত নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে এনসিপি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘শাপলা প্রতীক ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না।’ শুক্রবার মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল, তারা ধমক দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে যে অমুক মার্কা না দিলে আমরা নির্বাচনে যাব না বা ওমুকের মার্কা থাকতে পারবে না। আমরা এ কথা বলি নাই যে তোমাদেরকে মার্কা দেওয়া যাবে না। তাহলে অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন।’

    ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য এবং এটিকে থামিয়ে রাখা যায় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গ্রামেগঞ্জে যেখানে যাবেন, সেখানে একটাই স্লোগান শুধু ধান লাগাও, ধান লাগাও—এটাই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। ওই জন্য ধানের শীষকে রুখে দিতে হবে, আটকে দিতে হবে। কারণ, ধানের শীষ জিতে গেলে ওই যে বাংলাদেশের শত্রুরা আছে, সে শত্রুরা তাদের সব ষড়যন্ত্র থেকে পরাজিত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।’ শেখ হাসিনাকে দানব উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মনস্টার (দানব) শেখ হাসিনা এমনি এমনি দিল্লি পলাইয়া যায়নি, যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা সে ভিত্তি তৈরি করেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করে সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে আমরা সেই ভিত্তি অর্জন করেছি।’ কয়েক দিন লাফালাফি করলে গণতন্ত্র হয় না— এমন মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র গড়তে হলে অনেক পরিশ্রম দরকার, ত্যাগ দরকার, জনগণের কাছে যাওয়া দরকার। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য মানুষের কাছে যাওয়া পার্টি।’ আমলাতন্ত্রকে একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেখছি আমলাতন্ত্রকে একটি দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র, সরকার থাকতে হবে নির্বাচনের সময়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো দলের কাছে যেন মাথা নত না করে।’

    সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে শহীদ জেহাদের লাশ রেখে আমরা শপথ করেছিলাম স্বৈরাচার পতনের। পরের দিন হরতাল কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে আবার শপথ নিই। শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারের পতন করতে সফল হয়।’

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনসহ প্রমুখ।

    ×
    1 December 2025 03:20