১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    জাগৃক দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছেন; চেয়ারম্যানের পিএ নাহিদ

    • Reporter Name
    • Update Time : ০৭:৪০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
    • ৫০৯ Time View

    জাকির পাটোয়ারী : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তর ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি শক্তিশালী দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থেকেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছিল। আর এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী শক্তিশালী একটি গ্রুপ। গোয়েন্দা বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ডজন কর্মকর্তার-কর্মচারীর অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য।

    জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখার অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহীনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহীন প্রথমে মিরপুর ডিভিশন অফিসে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তার পদবী পরিবর্তন করে অফিস সহকারী হন। এছাড়া, তিনি এবং তার সিন্ডিকেট ভূমি শাখায় দায়িত্বশীলদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি করেন এবং অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

    তদন্তে প্রতিবেদনে জানা যায়, শাহীন একটি বিশাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন, যেখানে ভূমি শাখার বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্ত। এর মধ্যে আছেন মোঃ আসান হাবিব, এম সেলিম শাহনেওয়াজ, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ নাহিদ আরমান সহ অন্যান্য সদস্যরা। এই সিন্ডিকেটটি মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমি ও সম্পত্তির অবৈধ লীজ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

    এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র/নথি সৃজন করে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সেকশনে প্লটের লীজ দলিল করেছেন এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভূমি শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

    পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই সিন্ডিকেটে অসংখ্য সদস্য সিবিএ এর একতরফা নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে তিনি ভূমি শাখার সব কর্তৃত্ব নেন। ভূমি শাখার সব কার্যক্রম তার নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে বিধায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আবার অনেকে বিভিন্ন পদে চাকুরীতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পদবী পরিবর্তন করে অফিস সহকারী হয়েছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ নাহিদ আরমান, হিসাব সহকারী হিসেবে চাকরির যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে চেয়ারম্যানের পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছেন তিনি। এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, এম সেলিম শাহনেওয়াজ, উপ-পরিচালক-১, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা।

    প্রস্তাবিত পদক্ষেপ

    প্রতিবেদনটি সরকারী কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে যে, মোস্তফা কামাল শাহীন এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দুদকের মামলা

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে, তবে অভিযোগ রয়েছে যে, তদন্তে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদন্তকে থামিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। মামলাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি খুবই ধীর বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পিএ মোঃ নাহিদ আরমান বলেন, এটি প্রতি হিংসা করে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। আমার নাম বাদ দিয়ে আপনি নিউজ করেন। আপনি অফিসে আসেন, কথা বলেন, কথা বলা ছাড়া নিউজ করবেন না।

    জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরের অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। অনুসন্ধান চলমান (পর্ব-১)

    ×
    4 February 2026 00:06


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    Jakir Patwary

    জনপ্রিয় পোস্ট

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    জাগৃক দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছেন; চেয়ারম্যানের পিএ নাহিদ

    Update Time : ০৭:৪০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

    জাকির পাটোয়ারী : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তর ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি শক্তিশালী দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থেকেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছিল। আর এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী শক্তিশালী একটি গ্রুপ। গোয়েন্দা বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ডজন কর্মকর্তার-কর্মচারীর অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য।

    জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ভূমি শাখার অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহীনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহীন প্রথমে মিরপুর ডিভিশন অফিসে মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তার পদবী পরিবর্তন করে অফিস সহকারী হন। এছাড়া, তিনি এবং তার সিন্ডিকেট ভূমি শাখায় দায়িত্বশীলদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি করেন এবং অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছেন।

    তদন্তে প্রতিবেদনে জানা যায়, শাহীন একটি বিশাল সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন, যেখানে ভূমি শাখার বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুক্ত। এর মধ্যে আছেন মোঃ আসান হাবিব, এম সেলিম শাহনেওয়াজ, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ নাহিদ আরমান সহ অন্যান্য সদস্যরা। এই সিন্ডিকেটটি মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমি ও সম্পত্তির অবৈধ লীজ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

    এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র/নথি সৃজন করে মিরপুর এলাকার বিভিন্ন সেকশনে প্লটের লীজ দলিল করেছেন এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভূমি শাখার কর্মকর্তা কর্মচারীরা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

    পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই সিন্ডিকেটে অসংখ্য সদস্য সিবিএ এর একতরফা নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে তিনি ভূমি শাখার সব কর্তৃত্ব নেন। ভূমি শাখার সব কার্যক্রম তার নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে বিধায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আবার অনেকে বিভিন্ন পদে চাকুরীতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পদবী পরিবর্তন করে অফিস সহকারী হয়েছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ নাহিদ আরমান, হিসাব সহকারী হিসেবে চাকরির যোগদান করেন। তিনি বর্তমানে চেয়ারম্যানের পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছেন তিনি। এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, এম সেলিম শাহনেওয়াজ, উপ-পরিচালক-১, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা।

    প্রস্তাবিত পদক্ষেপ

    প্রতিবেদনটি সরকারী কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেছে যে, মোস্তফা কামাল শাহীন এবং তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দুদকের মামলা

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে, তবে অভিযোগ রয়েছে যে, তদন্তে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদন্তকে থামিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছেন। মামলাগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি খুবই ধীর বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পিএ মোঃ নাহিদ আরমান বলেন, এটি প্রতি হিংসা করে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। আমার নাম বাদ দিয়ে আপনি নিউজ করেন। আপনি অফিসে আসেন, কথা বলেন, কথা বলা ছাড়া নিউজ করবেন না।

    জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরের অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন। অনুসন্ধান চলমান (পর্ব-১)

    ×
    4 February 2026 00:06