১১:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    • Reporter Name
    • Update Time : ১১:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
    • ৭২ Time View

    সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতি এখন অনেকটাই অপেন সিক্রেট। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আলাদিনের চেরাগের ছুয়ায় অনেকেই এখন বাড়ি গাড়ির মালিক। পরিচ্ছন্নকর্মী থেকে গাড়ি চালকরা পর্যন্ত গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান নিলেও সিসিকের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো বেপরোয়া রয়েছেন।

    তেমনই একজন সিসিকের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাও ইউনিয়নের রাউতগ্রামের শফিকুর রহমান পুত্র। ২০০৬ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে সিসিকের যোগদানের পর ২০১৩ সালে আদালতের একটি রায়ে তার চাকুরী স্থায়ী হন সুপারভাইজার পদে। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি ভাগ্য পরিবতর্ন হয়ে গেছে। সিসিকের তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের ভাই, ভাগ্না, শ্যালক ও আত্নীয় স্বজন সহ অন্তত দেড়শতাধিক ব্যাক্তিকে চাকুরী দিয়েছেন, করেছেন মোটা অংকের বাণিজ্য। নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। কোথাও নিজের নামে আবার কোথাও আত্নীয় স্বজনের নামে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সিসিকের এই কর্মচারীর সম্পদ প্রকাশ্যে আসার ভয়ে গত বছর পর্যন্ত টিআইএন এর অন্তর্ভূক্ত হয়ননি। কারন ট্যাক্স রিটার্নে তার আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদের মিল থাকবে না। আর তখন জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে শহরতলীর বটেশ্বর চুয়াবহর এলাকায় ৫ তলা বাড়ির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এছাড়াও আলমপুর আবাসি এলাকায় হাফিজি মাদ্রাসার পাশে ১২ ডিসিমেলের (পিচ্চি বাবুলের বাসার পাশে) প্লট ও পাসপোর্ট অফিসের বিপরীত পাশে তার ৮ ডিসিমেলের খালি প্লট রয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউনিয়ন অফিসের সাথে বাইপাস এলাকায় রয়েছে ৮ভিগা জমি যার মূল্য প্রায় ৩কোটি টাকা। তার সম্পদের ও ব্যাংক হিসাবের অধিকাংশ শশুড়বাড়ীর লোকজনের নামে রাখা। সিসিকের ড্রাইভার সাদিক হলো তার শালা বাবু,ফারুক তার শালাবাবু সাদিক কে আরোয়ান ফাইভ বাইক কিনে দিয়েছে। সাদিক থাকে তার মেজরটিলা সৈয়দপুরের বাসায়। অপর এক শালা কে নুহা গাড়ী কিনে দিয়েছে। আরেক শালা কে বিদেশ পাঠিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহমদ দাবি করেন, জ্ঞাত আয় বর্হিভুত আমার কোন সম্পদ নেই। পারিবারিক সূত্রে পাওয়া বলে দাবি করেন তিনি। তবে একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার অটেল সম্পদের বিষয়ে। অনেকে মনে করেন পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক হয়ে এতো সম্পদ কিভাবে অর্জন করলেন তিনি।

    বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো সত্যতা নেই বলেও জানান তিনি।

    (সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম দুর্নীতি পর্ব-১)

    ×
    3 February 2026 11:32


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    Jakir Patwary

    জনপ্রিয় পোস্ট

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

    Update Time : ১১:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

    সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতি এখন অনেকটাই অপেন সিক্রেট। বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আলাদিনের চেরাগের ছুয়ায় অনেকেই এখন বাড়ি গাড়ির মালিক। পরিচ্ছন্নকর্মী থেকে গাড়ি চালকরা পর্যন্ত গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো ট্রলারেন্সে অবস্থান নিলেও সিসিকের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো বেপরোয়া রয়েছেন।

    তেমনই একজন সিসিকের পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারী গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাও ইউনিয়নের রাউতগ্রামের শফিকুর রহমান পুত্র। ২০০৬ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে সিসিকের যোগদানের পর ২০১৩ সালে আদালতের একটি রায়ে তার চাকুরী স্থায়ী হন সুপারভাইজার পদে। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি ভাগ্য পরিবতর্ন হয়ে গেছে। সিসিকের তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের ভাই, ভাগ্না, শ্যালক ও আত্নীয় স্বজন সহ অন্তত দেড়শতাধিক ব্যাক্তিকে চাকুরী দিয়েছেন, করেছেন মোটা অংকের বাণিজ্য। নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। কোথাও নিজের নামে আবার কোথাও আত্নীয় স্বজনের নামে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সিসিকের এই কর্মচারীর সম্পদ প্রকাশ্যে আসার ভয়ে গত বছর পর্যন্ত টিআইএন এর অন্তর্ভূক্ত হয়ননি। কারন ট্যাক্স রিটার্নে তার আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদের মিল থাকবে না। আর তখন জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে শহরতলীর বটেশ্বর চুয়াবহর এলাকায় ৫ তলা বাড়ির কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এছাড়াও আলমপুর আবাসি এলাকায় হাফিজি মাদ্রাসার পাশে ১২ ডিসিমেলের (পিচ্চি বাবুলের বাসার পাশে) প্লট ও পাসপোর্ট অফিসের বিপরীত পাশে তার ৮ ডিসিমেলের খালি প্লট রয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউনিয়ন অফিসের সাথে বাইপাস এলাকায় রয়েছে ৮ভিগা জমি যার মূল্য প্রায় ৩কোটি টাকা। তার সম্পদের ও ব্যাংক হিসাবের অধিকাংশ শশুড়বাড়ীর লোকজনের নামে রাখা। সিসিকের ড্রাইভার সাদিক হলো তার শালা বাবু,ফারুক তার শালাবাবু সাদিক কে আরোয়ান ফাইভ বাইক কিনে দিয়েছে। সাদিক থাকে তার মেজরটিলা সৈয়দপুরের বাসায়। অপর এক শালা কে নুহা গাড়ী কিনে দিয়েছে। আরেক শালা কে বিদেশ পাঠিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহমদ দাবি করেন, জ্ঞাত আয় বর্হিভুত আমার কোন সম্পদ নেই। পারিবারিক সূত্রে পাওয়া বলে দাবি করেন তিনি। তবে একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার অটেল সম্পদের বিষয়ে। অনেকে মনে করেন পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক হয়ে এতো সম্পদ কিভাবে অর্জন করলেন তিনি।

    বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো সত্যতা নেই বলেও জানান তিনি।

    (সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম দুর্নীতি পর্ব-১)

    ×
    3 February 2026 11:32