
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাত জনের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ইয়ারবাড পাওয়া যাওয়ায় তাদের আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরও পুলিশের সহযোগিতায় জালিয়াতি চক্রের আরো ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ‘সমন্বিত নাবিক প্রি-সি’ (রেটিং) ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কমোডর মো. শফিউল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট আগারগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আগারগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সাত জনের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ইয়ারবাড পাওয়া যায়। পরীক্ষায় যেহেতু ইলেকট্রনিক কোনো কিছু ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল তাই তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সহযোগিতায় পরবর্তীতে জালিয়াতি চক্রের আরো ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর আগে তল্লাশিতে কিছু ভুয়া পরীক্ষার্থী কেন্দ্র থেকে সরে যায়। পরীক্ষা চলাকালীন তল্লাশিতে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর দেহে সংযুক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ইয়ারবার্ড শনাক্ত করা হয়। সেইসঙ্গে প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরীক্ষার দিন রাতে মিরপুর, শ্যামলী ও ফার্মগেট এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার মূল হোতাদের একজনকে আটক করা হয়। আটক হওয়া মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, পূর্বে অনিয়ম, প্রক্সি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। যার কারণে এবার আমরা সতর্ক ছিলাম। আমি নিজে বসে নৌবাহিনীর প্রেসে প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করি। প্রথমবারের মতো এ আই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে পরীক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে। এরপরও যেহেতু তারা (আটককৃতরা) অসদুপায়ের আশ্রয় নিয়েছে তাই আটক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের পেছনে কারা কাজ করছে সেটা খুঁজে বের করেছি। এখানে একটি দালাল চক্র আছে যারা নাটোর, পাবনার মতো এলাকার পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে ৪-৫ লাখ হাতিয়ে নেয়। তাদের একটি চক্রকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

Reporter Name 








