১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম অমিলে ভোগান্তির শিকার! দ্রুত ভোগান্তি নিরসনে আশ্বাস পুলিশ সুপারের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪০২ Time View

বিধান কুমার বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদর থানা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা’য় পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম অমিল হওয়ায় ভোগান্তির শিকারসহ বিদেশযাত্রায় প্রাথমিকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সেবা প্রত্যাশীরা। পাসপোর্টে রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে থানার নাম সদর বাদ দিয়ে শুধু “রাজবাড়ী” ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে ঘাট বাদ দিয়ে শুধু “গোয়ালন্দ” হওয়ায় দুই দপ্তরের ভুলে ফ্যাড়কায় ভোগান্তিতে পড়েছে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে সেবা গ্রহীতারা।

জানাযায়, ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ গোয়ালন্দ মহকুমা ফরিদপুর জেলা থেকে পৃথক হয়ে রাজবাড়ী জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৪ সালের গেজেট অনুসারে রাজবাড়ীতে তখন হতেই ৫ টি থানার মধ্যে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার নাম “রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থাকলেও” পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পাসপোর্ট সেবা ম্যানুয়াল হতে অনলাইন হবার পর ই-পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দুটিতে থানার নাম ভুল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
২০২০ সালে ই পাসপোর্ট আরম্ভ হলে রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে থানা “রাজবাড়ী” অন্তর্ভুক্ত হয় ও ২০১৯ সালে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি) ম্যানুয়াল থেকে অনলাইন হলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে থানা “গোয়ালন্দ” অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০২০ সালের পর থেকে ই পাসপোর্ট হলে, ই- পাসপোর্ট গ্রহীতারা ভিসারর জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন সাপেক্ষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি) নিয়ে ভিসা প্রসেসিং সেন্টার বা এম্বেসিতে জমা দিলে পাসপোর্টের সাথে থানার নাম মিল না থাকায় ভিসা প্রত্যাখান করা সহ পুনরায় নির্ভুল কাগজ জমা দেবার কথা বলা হচ্ছে। সেই সাথে প্রাথমিকভাবে অনেকে বাদ-ও পরছেন ভিসা আবেদন থেকে। এই ভিসার জন্য পুনরায় আবেদন করতে সংশোধিত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি) নিয়ে জমা দিতে সময়, অর্থের অপচয়সহ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বিদেশগামীরা।

সাধারনত জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রয়োজনীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে থানার নাম রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার নাম গোয়ালন্দ ঘাট উল্লেখ থাকলেও পাসপোর্ট প্রাপ্তদের পাসপোর্টে থানার নাম শুধু “রাজবাড়ী” ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তদের পিসিসি তে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে শুধু “গোয়ালন্দ” অন্তভূক্ত হয়। আর এই ভুলের জন্য ভিসা প্রসেসিং থেকে প্রত্যাখ্যান হয়ে পুনরায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আবেদন করে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে এসপি অফিসের ডিএসবি হতে সংশোধন করতে হচ্ছে। এতে করে সময়, অর্থসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদেশগামী সেবা প্রত্যাশীদের। এই ভুলকে কতৃপক্ষের অবহেলা ও দায় হিসেবে দেখছেন কেও কেও।

সাধারণত দেখা যায়, স্থায়ী বাসস্থান (পিআর) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসায় (সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোর্স হলে), অভিবাসন বা নাগরিকত্বের আবেদনে সম্প্রতি এই দুটি থানার ভিসা প্রত্যাশীদের শতভাগই ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই ভিসাগুলোর আবেদনের জন্য প্রয়োজন হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি)। আর এতেই পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে। আর পাসপোর্ট ও পুলিশ অধিদপ্তরের এই ভুল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যায়ন নিয়ে ডিএসবিতে এসে সংশোধন করতে হচ্ছে। তখন প্রত্যায়নে উল্লেখ করে দেওয়া হচ্ছে যে রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর এবং গোয়ালন্দ ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা একই।

এ বিষয়ে সদর ও গোয়ালন্দের কিছু সেবা গ্রহীতার সাথে কথা বলে জানাযায়, এই সমস্যার জন্য কিছু কিছু সময় বিদেশে যাওয়ায় পিছিয়ে যেতে হচ্ছে ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত। পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিদ্যমান এই সমস্যার জন্য সময়, অর্থ, শ্রমসহ নানামুখী সমস্যায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। আর এই ভোগান্তি দীর্ঘসময় চলে আসলেও অদ্যবধি চুড়ান্ত প্রতিকার হয় নাই। পাসপোর্ট অফিস তথ্য অনুসারে জানা যায়, সফটওয়্যারে থানার নাম রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে শুধু “রাজবাড়ী” থানা রয়েছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা সত্বে বলেন, আমরা চাইলেই থানা “রাজবাড়ী সদর” ইহা পরিবর্তন করতে পারবো না। এটা পরিবর্তন করতে হলে সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে হবে। যা ঢাকা হেড অফিস করতে পারবে। পাসপোর্ট অফিসের ভুল সদর থানা’র জায়গায় থানার নাম শুধু “রাজবাড়ী” স্থলে “রাজবাড়ী সদর” হিসেবে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার আপডেট করে সংশোধন করলে ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ভুল গোয়ালন্দ ঘাট থানার জায়গায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম শুধু “গোয়ালন্দ” সংশোধন করে “গোয়ালন্দ ঘাট” করলে এই দুটি থানার পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা নির্মূল হবে।

সাধারণত বাংলাদেশীদের স্থায়ী বাসস্থান (পিআর) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে কানাডা (এক্সপ্রেস এন্টি, ফ্যামিলি স্পন্সার শিপ ইত্যাদি), অস্ট্রেলিয়া (স্ক্রিল মেরিগেশন , পার্টনার ভিসা ), নিউজিল্যান্ড (স্কেল মাইগ্রেন ক্যাটাগরি ), যুক্তরাষ্ট্র (ইমিগ্রেশন ভিসা, গ্রীন কার্ড ), যুক্তরাজ্য (সেটেলমেন্ট ভিসা)সহ ইউরোপীয় দেশগুলো – যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদির দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। ওয়ার্ক পারমিট বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো – যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইনসহ এশিয়ার কিছু দেশ – যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া (কিছু ক্ষেত্রে) ও ইউরোপ – যেমন পোল্যান্ড, মাল্টা, রোমানিয়া, চেক রিপাবলিকের ওয়ার্ক ভিসায়-ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। আবার, স্টুডেন্ট ভিসায় (সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোর্স হলে) পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কিছু দেশ যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপের কিছু দেশ দীর্ঘমেয়াদি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য (পিসিসি) চাইতে পারে তবে সেটা আবার সবসময় নয়। অভিবাসন বা নাগরিকত্বের আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। যখন কোনো দেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে, তখন প্রায় সব দেশই (পিসিসি) চায়। কোন ব্যক্তি যে দেশগুলোতে গত ৫–১০ বছরে ৬ মাস বা তার বেশি ছিলেন, সেখান থেকেও নিতে হতে পারে।
ট্রাভেল ভিসা (ট্যুরিস্ট ভিসা)-র জন্য সাধারণত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগে না। তবে, কোন দেশে কতদিন থাকবে বা কী ধরণের ভিসার জন্য আবেদন করছে তার উপর ভিত্তি করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজনীয়তা বদলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে কনস্যুলেট আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে হঠাৎ (পিসিসি) চাইতে পারে, এমনকি যদি তা শুরুর তালিকায় না থাকে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার দৈনিক ভোরের বার্তাকে জানান, থানার নাম জটিলতা নিয়ে ইতোপুর্বে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক এডি পাসপোর্ট দ্রুত বিষয়টি তার কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানায় এবং তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। পত্রটি কর্তৃপক্ষ প্রজেক্ট বরাবর প্রেরণ করেছেন। ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন করা হয় এবং সে সময় হতে পাসপোর্ট-এ থানার নাম “রাজবাড়ী” ও “গোয়ানন্দ ঘাট” উল্লেখ রয়েছে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। জানা যায় পুর্বে ম্যানুয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স- এ থানার নাম রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দঘাট ব্যবহার হতো। তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইন হওয়ার পর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-থানার নাম পরিবর্তন হয় এবং পাসপোর্টের সাথে অমিল হওয়াতে সমস্যার উদ্ভব হয়। বর্তমানে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কেউ পাসপোর্ট অফিসে সমস্যা জানাচ্ছে না। রাজবাড়ী থানার নাম অনলাইন ও অফ লাইনে ভিন্ন হওয়ায় বর্তমানে পুলিশ বিভাগ হতে একটি প্রত্যয়ন দেওয়া হয় যাতে উল্লেখ করা হয় “রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর একই থানা”এভাবে আপাতত সমাধান দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জনগণের সমস্যা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে সর্বপরি যোগাযোগ করে যাচ্ছে! দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।

জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম দৈনিক ভোরের বার্তাকে জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পাসপোর্ট কর্মকর্তার সাথেও আলোচনা হয়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুততর সময়ের মধ্যে সমাধানের জোড়ালো চেষ্টা চলছে। সাধারণ জনগন যাতে বিন্দু পরিমাণ ভোগান্তির শিকার না হয় বা দ্বিতীয়বার জেন সংশোধনের জন্য আসতে না হয় এজন্য তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সাথেই আমরা প্রত্যায়ন দিয়ে দিচ্ছি যে “রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর থানা এবং ‘গোয়ালন্দ ঘাট ও গোয়ালন্দ থানা’ একই থানা”।

এ বিষয় রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তা মোঃ আবজাউল আলম দৈনিক ভোরের বার্তাকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত। উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ২০২০ সাল হতে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হয়, এ জাতীয় সমস্যা হয়নি কখনো। তবে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইনে যাবার পর সমস্যা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

×
12 May 2026 00:01


Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ফারুকের যত সম্পদ

পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম অমিলে ভোগান্তির শিকার! দ্রুত ভোগান্তি নিরসনে আশ্বাস পুলিশ সুপারের

Update Time : ০২:২০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

বিধান কুমার বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধি: রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদর থানা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা’য় পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম অমিল হওয়ায় ভোগান্তির শিকারসহ বিদেশযাত্রায় প্রাথমিকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সেবা প্রত্যাশীরা। পাসপোর্টে রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে থানার নাম সদর বাদ দিয়ে শুধু “রাজবাড়ী” ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে ঘাট বাদ দিয়ে শুধু “গোয়ালন্দ” হওয়ায় দুই দপ্তরের ভুলে ফ্যাড়কায় ভোগান্তিতে পড়েছে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে সেবা গ্রহীতারা।

জানাযায়, ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ গোয়ালন্দ মহকুমা ফরিদপুর জেলা থেকে পৃথক হয়ে রাজবাড়ী জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৪ সালের গেজেট অনুসারে রাজবাড়ীতে তখন হতেই ৫ টি থানার মধ্যে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার নাম “রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থাকলেও” পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পাসপোর্ট সেবা ম্যানুয়াল হতে অনলাইন হবার পর ই-পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দুটিতে থানার নাম ভুল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
২০২০ সালে ই পাসপোর্ট আরম্ভ হলে রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে থানা “রাজবাড়ী” অন্তর্ভুক্ত হয় ও ২০১৯ সালে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি) ম্যানুয়াল থেকে অনলাইন হলে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে থানা “গোয়ালন্দ” অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০২০ সালের পর থেকে ই পাসপোর্ট হলে, ই- পাসপোর্ট গ্রহীতারা ভিসারর জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন সাপেক্ষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি) নিয়ে ভিসা প্রসেসিং সেন্টার বা এম্বেসিতে জমা দিলে পাসপোর্টের সাথে থানার নাম মিল না থাকায় ভিসা প্রত্যাখান করা সহ পুনরায় নির্ভুল কাগজ জমা দেবার কথা বলা হচ্ছে। সেই সাথে প্রাথমিকভাবে অনেকে বাদ-ও পরছেন ভিসা আবেদন থেকে। এই ভিসার জন্য পুনরায় আবেদন করতে সংশোধিত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি) নিয়ে জমা দিতে সময়, অর্থের অপচয়সহ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বিদেশগামীরা।

সাধারনত জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রয়োজনীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে থানার নাম রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার নাম গোয়ালন্দ ঘাট উল্লেখ থাকলেও পাসপোর্ট প্রাপ্তদের পাসপোর্টে থানার নাম শুধু “রাজবাড়ী” ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তদের পিসিসি তে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিবর্তে শুধু “গোয়ালন্দ” অন্তভূক্ত হয়। আর এই ভুলের জন্য ভিসা প্রসেসিং থেকে প্রত্যাখ্যান হয়ে পুনরায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আবেদন করে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে এসপি অফিসের ডিএসবি হতে সংশোধন করতে হচ্ছে। এতে করে সময়, অর্থসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদেশগামী সেবা প্রত্যাশীদের। এই ভুলকে কতৃপক্ষের অবহেলা ও দায় হিসেবে দেখছেন কেও কেও।

সাধারণত দেখা যায়, স্থায়ী বাসস্থান (পিআর) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসায় (সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোর্স হলে), অভিবাসন বা নাগরিকত্বের আবেদনে সম্প্রতি এই দুটি থানার ভিসা প্রত্যাশীদের শতভাগই ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই ভিসাগুলোর আবেদনের জন্য প্রয়োজন হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট(পিসিসি)। আর এতেই পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে। আর পাসপোর্ট ও পুলিশ অধিদপ্তরের এই ভুল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যায়ন নিয়ে ডিএসবিতে এসে সংশোধন করতে হচ্ছে। তখন প্রত্যায়নে উল্লেখ করে দেওয়া হচ্ছে যে রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর এবং গোয়ালন্দ ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা একই।

এ বিষয়ে সদর ও গোয়ালন্দের কিছু সেবা গ্রহীতার সাথে কথা বলে জানাযায়, এই সমস্যার জন্য কিছু কিছু সময় বিদেশে যাওয়ায় পিছিয়ে যেতে হচ্ছে ১৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত। পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের বিদ্যমান এই সমস্যার জন্য সময়, অর্থ, শ্রমসহ নানামুখী সমস্যায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। আর এই ভোগান্তি দীর্ঘসময় চলে আসলেও অদ্যবধি চুড়ান্ত প্রতিকার হয় নাই। পাসপোর্ট অফিস তথ্য অনুসারে জানা যায়, সফটওয়্যারে থানার নাম রাজবাড়ী সদর থানার পরিবর্তে শুধু “রাজবাড়ী” থানা রয়েছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা সত্বে বলেন, আমরা চাইলেই থানা “রাজবাড়ী সদর” ইহা পরিবর্তন করতে পারবো না। এটা পরিবর্তন করতে হলে সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে হবে। যা ঢাকা হেড অফিস করতে পারবে। পাসপোর্ট অফিসের ভুল সদর থানা’র জায়গায় থানার নাম শুধু “রাজবাড়ী” স্থলে “রাজবাড়ী সদর” হিসেবে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার আপডেট করে সংশোধন করলে ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ভুল গোয়ালন্দ ঘাট থানার জায়গায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থানার নাম শুধু “গোয়ালন্দ” সংশোধন করে “গোয়ালন্দ ঘাট” করলে এই দুটি থানার পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা নির্মূল হবে।

সাধারণত বাংলাদেশীদের স্থায়ী বাসস্থান (পিআর) বা দীর্ঘমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে কানাডা (এক্সপ্রেস এন্টি, ফ্যামিলি স্পন্সার শিপ ইত্যাদি), অস্ট্রেলিয়া (স্ক্রিল মেরিগেশন , পার্টনার ভিসা ), নিউজিল্যান্ড (স্কেল মাইগ্রেন ক্যাটাগরি ), যুক্তরাষ্ট্র (ইমিগ্রেশন ভিসা, গ্রীন কার্ড ), যুক্তরাজ্য (সেটেলমেন্ট ভিসা)সহ ইউরোপীয় দেশগুলো – যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদির দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্স পারমিট এর জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। ওয়ার্ক পারমিট বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো – যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইনসহ এশিয়ার কিছু দেশ – যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া (কিছু ক্ষেত্রে) ও ইউরোপ – যেমন পোল্যান্ড, মাল্টা, রোমানিয়া, চেক রিপাবলিকের ওয়ার্ক ভিসায়-ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। আবার, স্টুডেন্ট ভিসায় (সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কোর্স হলে) পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কিছু দেশ যেমন কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপের কিছু দেশ দীর্ঘমেয়াদি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য (পিসিসি) চাইতে পারে তবে সেটা আবার সবসময় নয়। অভিবাসন বা নাগরিকত্বের আবেদনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। যখন কোনো দেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলে, তখন প্রায় সব দেশই (পিসিসি) চায়। কোন ব্যক্তি যে দেশগুলোতে গত ৫–১০ বছরে ৬ মাস বা তার বেশি ছিলেন, সেখান থেকেও নিতে হতে পারে।
ট্রাভেল ভিসা (ট্যুরিস্ট ভিসা)-র জন্য সাধারণত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগে না। তবে, কোন দেশে কতদিন থাকবে বা কী ধরণের ভিসার জন্য আবেদন করছে তার উপর ভিত্তি করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজনীয়তা বদলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে কনস্যুলেট আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে হঠাৎ (পিসিসি) চাইতে পারে, এমনকি যদি তা শুরুর তালিকায় না থাকে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার দৈনিক ভোরের বার্তাকে জানান, থানার নাম জটিলতা নিয়ে ইতোপুর্বে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক এডি পাসপোর্ট দ্রুত বিষয়টি তার কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানায় এবং তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। পত্রটি কর্তৃপক্ষ প্রজেক্ট বরাবর প্রেরণ করেছেন। ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন করা হয় এবং সে সময় হতে পাসপোর্ট-এ থানার নাম “রাজবাড়ী” ও “গোয়ানন্দ ঘাট” উল্লেখ রয়েছে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। জানা যায় পুর্বে ম্যানুয়াল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স- এ থানার নাম রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দঘাট ব্যবহার হতো। তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইন হওয়ার পর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-থানার নাম পরিবর্তন হয় এবং পাসপোর্টের সাথে অমিল হওয়াতে সমস্যার উদ্ভব হয়। বর্তমানে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে কেউ পাসপোর্ট অফিসে সমস্যা জানাচ্ছে না। রাজবাড়ী থানার নাম অনলাইন ও অফ লাইনে ভিন্ন হওয়ায় বর্তমানে পুলিশ বিভাগ হতে একটি প্রত্যয়ন দেওয়া হয় যাতে উল্লেখ করা হয় “রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর একই থানা”এভাবে আপাতত সমাধান দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জনগণের সমস্যা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে সর্বপরি যোগাযোগ করে যাচ্ছে! দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।

জেলা পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম দৈনিক ভোরের বার্তাকে জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পাসপোর্ট কর্মকর্তার সাথেও আলোচনা হয়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুততর সময়ের মধ্যে সমাধানের জোড়ালো চেষ্টা চলছে। সাধারণ জনগন যাতে বিন্দু পরিমাণ ভোগান্তির শিকার না হয় বা দ্বিতীয়বার জেন সংশোধনের জন্য আসতে না হয় এজন্য তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সাথেই আমরা প্রত্যায়ন দিয়ে দিচ্ছি যে “রাজবাড়ী ও রাজবাড়ী সদর থানা এবং ‘গোয়ালন্দ ঘাট ও গোয়ালন্দ থানা’ একই থানা”।

এ বিষয় রাজবাড়ীর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তা মোঃ আবজাউল আলম দৈনিক ভোরের বার্তাকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত। উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ২০২০ সাল হতে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হয়, এ জাতীয় সমস্যা হয়নি কখনো। তবে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইনে যাবার পর সমস্যা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

×
12 May 2026 00:01