
লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। ছেলে তারেক রহমানের কিংস্টনের বাড়ির নিচতলাতেই থাকছেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া হাঁটাচলা করতে পারছেন না। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরে সময় কাটছে তার।
লন্ডনে আসার পর সরাসরি বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ঘরে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফুসরৎ মেলেনি খালেদা জিয়ার। পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনিরা হাসপাতালে তাকে সময় দিতেন। ঘরে ফেরার পর সময় কাটছে একদম পারিবারিক আবহে। খাচ্ছেন ঘরের তৈরি খাবার। তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তার দেখভাল করছেন। আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান শিথিও থাকছেন কাছাকাছি। তিনিও শাশুড়ির দেখভাল করছেন। তিন নাতনিকে কাছে পেয়ে অনেকটা নির্ভার খালেদা জিয়া। মানসিকভাবেও আছেন উজ্জীবিত।
সূত্রটি জানায়, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কোনও শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনে আবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।
সূত্র জানায়, লন্ডনে আসার পর এখানকার চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার সব স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও কিছু ওষুধের নাম এবং মাত্রার পরিবর্তন ছাড়া চিকিৎসায় বড় ধরনের কোনও পরিবর্তন আনেননি। দেশের মতো নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমেই তার লিভার, কিডনি, ডায়বেটিস, প্রেশার, আর্থরাইটিস ও হার্টের চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আপাতত তার লিভার প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নেই।
বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের একাধিকবার বলেছেন, ‘লন্ডনে দ্য লন্ডন ক্লিনিকের অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডিসহ মার্কিন চিকিৎসকরাও ম্যাডামের দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের ডাক্তারদের দেওয়া চিকিৎসারও সুনাম করেছেন। লন্ডনে পারিবারিক পরিবেশে সন্তান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে পেয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকায় তার শারীরিক অবস্থাও ভালো আছে, স্থিতিশীল আছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও দেশের ফেরার ব্যাপারে তার চিকিৎসকদের উদ্ধৃতির বাইরে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
Reporter Name 









