০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

    বেবিচকের ধনকুবের খ্যাত শত কোটি টাকার মালিক সুব্রত চন্দ্র দে। দুদকে অভিযোগে

    • Reporter Name
    • Update Time : ১০:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
    • ৫১৬ Time View

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দে বিরুদ্ধে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ও ঢাকায় একাধিক আলিশান বাড়ি ও প্লট, গ্রামের বাড়িতে রয়েছে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে অভিযোগ উঠেছে। সুব্রত চন্দ্র দে বেবিচক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা যোগদানের পরে থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। উৎকোচের মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান/স্টলগুলো বরাদ্দ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    সিভিল এভিয়েশন স্থাবর সম্পত্তির মালিকানার দিক থেকে দেশের অন্যতম ধনী প্রতিষ্ঠান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কিন্তু এ সম্পত্তিগুলোর কোনো ধরনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। প্রচুর সম্পত্তি অবৈধ দখলে থাকলেও দখলদারদের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধা নিচ্ছেন বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    বিমানবন্দরের স্পেস/স্টল ও বিলবোর্ড ভাড়ায় অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের একমাত্র ডিউটি-ফ্রি শপসমূহ ছাড়া অন্য দোকান/স্টলগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি। সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যাঙের ছাতার মতো বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে টং দোকান গড়ে উঠেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যত্রতত্র দোকান বসিয়ে মাসোহারা আদায় করেন এই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, সুব্রত চন্দ্র দে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা যোগদানের পরে তিনি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কার না করে অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ টেন্ডার পাস করে দিয়েছেন। অবৈধভাবে উৎকোচের মাধ্যমে বিত্তবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বেবিচকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে অবৈধ দখলদার ও দোকান মালিকদের কাছ দালাল সিন্ডিকেট দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

    একই অফিসে বহু বছর ধরে এবং সিনিয়র অফিসার হওয়ার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। এখনোও তিনি বিভিন্ন জাগায় দোকান বসিয়ে দোকান মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে গোপনে দোকান বসানোর অনুমতি প্রধান করেন। শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তার রয়েছে বিশাল ক্ষমতাসীল একটা সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র।

    আর এসব অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দে বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে আবেদন করেছেন। দাখিলকৃত অভিযোগ পত্র থেকে সম্পত্তির বিবরণী জানা যায়, ১. ৪ শতাংশ জমির উপরে পাঁচতলা টি বাড়ি ২. ৩৩ শতাংশ চালা জমি রয়েছে, পালের পাড়া, গাজীপুরে ৩. পাশে আরেকটি প্লট ৯৪ শতাংশ চালা জমি রয়েছে, পালের পাড়া, গাজীপুরে ৪. কাওলা ৩ কাঠার উপরে চারতলা একটি বাড়ি রয়েছে। ৫. ফ্ল্যাট নং-এ–৪, বি-৪, প্লট নং- ৪৩, রোড নং- ৯, সেক্টর -১৩, উত্তরা, ঢাকা। উক্ত বাসাটি দুটি ফ্লাট রয়েছে। ৬. জি -ব্লকে, রোড নং- ৩/এ, সেক্টর -১৫, উত্তরা, ঢাকা। ৩ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।

    এছাড়াও তার পরিবারের নামে বেনামে থানা-বোরহান উদ্দিন, জেলা- ভোলা সহ বিঘায় বিঘায় জমি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। যা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পাওয়া যাবে। তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের বেড়াল।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বেবিচক একজন কর্মকর্তা জানান, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার সুব্রত চন্দ্র দে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে, এবং চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে অনিয়ম- দুর্নীতি করে আসছেন।

    বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায় যে, নামে বেনামে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করা আছে। উক্ত এফডিআর এর পরিমাণ কোটি টাকার মত। সুব্রত চন্দ্র দে এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, সুব্রত চন্দ্র দে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনের নামে সম্পদ গড়েছেন। তার পরিবার ও আত্বীয় স্বজনের সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স তদন্ত করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন।

    বেবিচকের সুব্রত চন্দ্র দে আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তদন্তের জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বেবিচকের সাধারণ কর্মচারীগণ। ইতোমধ্যে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন জমা পড়েছে

    গত কয়েকদিন ধরে অভিযোগের বিষয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলো তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    ×
    16 December 2025 03:44


    Tag :

    Write Your Comment

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Save Your Email and Others Information

    About Author Information

    Jakir Patwary

    বেবিচকের ধনকুবের খ্যাত শত কোটি টাকার মালিক সুব্রত চন্দ্র দে। দুদকে অভিযোগে

    Update Time : ১০:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দে বিরুদ্ধে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ও ঢাকায় একাধিক আলিশান বাড়ি ও প্লট, গ্রামের বাড়িতে রয়েছে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে অভিযোগ উঠেছে। সুব্রত চন্দ্র দে বেবিচক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা যোগদানের পরে থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। উৎকোচের মাধ্যমে বিভিন্ন দোকান/স্টলগুলো বরাদ্দ ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    সিভিল এভিয়েশন স্থাবর সম্পত্তির মালিকানার দিক থেকে দেশের অন্যতম ধনী প্রতিষ্ঠান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কিন্তু এ সম্পত্তিগুলোর কোনো ধরনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই। প্রচুর সম্পত্তি অবৈধ দখলে থাকলেও দখলদারদের সঙ্গে আঁতাত করে সুবিধা নিচ্ছেন বেবিচকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    বিমানবন্দরের স্পেস/স্টল ও বিলবোর্ড ভাড়ায় অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশের একমাত্র ডিউটি-ফ্রি শপসমূহ ছাড়া অন্য দোকান/স্টলগুলো পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি। সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যাঙের ছাতার মতো বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে টং দোকান গড়ে উঠেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যত্রতত্র দোকান বসিয়ে মাসোহারা আদায় করেন এই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, সুব্রত চন্দ্র দে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা যোগদানের পরে তিনি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কার না করে অবৈধভাবে দোকান বরাদ্দ টেন্ডার পাস করে দিয়েছেন। অবৈধভাবে উৎকোচের মাধ্যমে বিত্তবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বেবিচকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে অবৈধ দখলদার ও দোকান মালিকদের কাছ দালাল সিন্ডিকেট দিয়ে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

    একই অফিসে বহু বছর ধরে এবং সিনিয়র অফিসার হওয়ার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। এখনোও তিনি বিভিন্ন জাগায় দোকান বসিয়ে দোকান মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে গোপনে দোকান বসানোর অনুমতি প্রধান করেন। শুধু তাই নয়, এই কর্মকর্তার রয়েছে বিশাল ক্ষমতাসীল একটা সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র।

    আর এসব অনিয়ম দুর্নীতি বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দে বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে আবেদন করেছেন। দাখিলকৃত অভিযোগ পত্র থেকে সম্পত্তির বিবরণী জানা যায়, ১. ৪ শতাংশ জমির উপরে পাঁচতলা টি বাড়ি ২. ৩৩ শতাংশ চালা জমি রয়েছে, পালের পাড়া, গাজীপুরে ৩. পাশে আরেকটি প্লট ৯৪ শতাংশ চালা জমি রয়েছে, পালের পাড়া, গাজীপুরে ৪. কাওলা ৩ কাঠার উপরে চারতলা একটি বাড়ি রয়েছে। ৫. ফ্ল্যাট নং-এ–৪, বি-৪, প্লট নং- ৪৩, রোড নং- ৯, সেক্টর -১৩, উত্তরা, ঢাকা। উক্ত বাসাটি দুটি ফ্লাট রয়েছে। ৬. জি -ব্লকে, রোড নং- ৩/এ, সেক্টর -১৫, উত্তরা, ঢাকা। ৩ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।

    এছাড়াও তার পরিবারের নামে বেনামে থানা-বোরহান উদ্দিন, জেলা- ভোলা সহ বিঘায় বিঘায় জমি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। যা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পাওয়া যাবে। তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের বেড়াল।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বেবিচক একজন কর্মকর্তা জানান, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখার সুব্রত চন্দ্র দে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে, এবং চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে অনিয়ম- দুর্নীতি করে আসছেন।

    বিশ্বস্তসুত্রে জানা যায় যে, নামে বেনামে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করা আছে। উক্ত এফডিআর এর পরিমাণ কোটি টাকার মত। সুব্রত চন্দ্র দে এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, সুব্রত চন্দ্র দে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনের নামে সম্পদ গড়েছেন। তার পরিবার ও আত্বীয় স্বজনের সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স তদন্ত করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টগণ মনে করেন।

    বেবিচকের সুব্রত চন্দ্র দে আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তদন্তের জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বেবিচকের সাধারণ কর্মচারীগণ। ইতোমধ্যে অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন জমা পড়েছে

    গত কয়েকদিন ধরে অভিযোগের বিষয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সদরদপ্তরের, সিনিয়র অফিসার, সুব্রত চন্দ্র দের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলো তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    ×
    16 December 2025 03:44